নেপালে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর তিব্বতে নিখোঁজ বেড়ে ৫৫৮; আরও বিপর্যয়ের সতর্কতা চীনের
নেপাল সীমান্তের কাছে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনায় চীনের তিব্বতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। একই সঙ্গে দুর্যোগকবলিত এলাকার উজানে আরও ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) তিব্বত ও নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং এলাকার কাছে পাহাড়ের বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর নদীতে ধসে পড়ে। এতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ভাটিতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিহত ও শত শত মানুষ নিখোঁজ হন। বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পও ভেসে যায়।
চীনের অংশে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার আশপাশের গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুজন গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে দুর্ঘটনাস্থলের উজানে একটি নদীর বাঁধে তৈরি হওয়া হ্রদ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই হ্রদ থেকে পানি বেরিয়ে গেলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং নতুন দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদটির ওপর নজরদারি ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন জোরদার করেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে স্থানীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে বেইজিং ও চেংদু থেকে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীর্থযাত্রী ও ট্রেকারদের কাছে জনপ্রিয় এলাকাটিতে বন্যার পর এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় নেপালে নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা ৫০০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে ভারতের শতাধিক, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং নেপালেরই শতাধিক নাগরিক রয়েছেন।
