শিক্ষকের চড়ে শ্রেণিকক্ষেই ৬ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু, ভারতে তীব্র ক্ষোভ
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের একটি স্কুলে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের চড়ে ছয় বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রাজ্যেটির বিশাখাপত্তনম শহরের ওই স্কুলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দেশটিতে স্কুলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লাসরুমে এক নারী শিক্ষক শিশুটির জামা ধরে টেনে এনে মুখে চড় মারেন। আঘাতের পরপর শিশুটি মাটিতে ঢলে পড়ে।
শিশুটির নাম প্রণয় তেজ। পুলিশ পরিদর্শক পুডি তারা প্রসাদ প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে জানায়, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের শিক্ষা ও আইটি মন্ত্রী নারা লোকেশ বৃহস্পতিবার ফেসবুকে লিখেছেন, 'আমরা দায়ীদের এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।' স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছের তিনি।
শুক্রবার এক্স পোস্টে লোকেশ বলেন, 'একজন বাবা হিসেবে, ছোট প্রণয় তেজের সঙ্গে যা ঘটেছে তা আমি মেনে নিতে পারছি না। তার মা-বাবা যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। আমাদের স্কুলে শারীরিক শাস্তির কোনো স্থান নেই। শৃঙ্খলার নামে কোনো শিশুকে কখনো সহিংসতার মুখোমুখি করা উচিত নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'ইতোমধ্যে আমি বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।' তিনি প্রণয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যুর খবরে স্বজনরা হাসপাতালে জড়ো হন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান।
প্রণয় তেজের বাবা জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে তার ছেলেকে সুস্থ দেখাচ্ছিল।
তিনি বলেন, 'সকালে প্রায় ৮টার দিকে আমার ছেলে ঘুম থেকে ওঠে এবং বলে, সে স্কুলে যেতে চায়। সে স্কুলে যাওয়ার জন্য জেদ করেছিল।'
ঘটনার বিষয়ে তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) রাজ্য সভাপতি পাল্লা শ্রীনিবাস রাও জানান, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক নির্যাতন বা শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ২০১৮ সালে ভারতীয় এনজিও 'অগ্রসর'-এর এক গবেষণায় উঠে আসে, দেশটির স্বল্প আয়ের পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলেই শিক্ষকদের কোনো না কোনো শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হয়।
