ইউরোপে ‘সংক্ষিপ্ত’ সফরে গিয়ে আড়াই মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর নিজ দেশে ফিরলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট
চার দশকেরও বেশি সময় আগে ক্ষমতায় আসার পর বিদেশে তার সবচেয়ে দীর্ঘ সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। এর মধ্য দিয়ে তার স্বাস্থ্য এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে চলা কয়েক মাসের জল্পনার অবসান ঘটল।
৯৩ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপ্রধান সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে একটি ভাড়া করা বিমানে রাজধানী ইয়াউন্ডের এনসিমালেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি ১০ সপ্তাহেরও বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ রাষ্ট্রপ্রধান বিয়া গত ৭ জুন ক্যামেরুন ছাড়েন। সেসময় দেশটির বেসামরিক মন্ত্রিসভা জানিয়েছিল, তিনি 'ইউরোপে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে' যাচ্ছেন।
ফার্স্ট লেডি চান্তাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে (জিএমটি ১৫টা ৪৫ মিনিট) বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। এরপর গাড়িতে করে তিনি প্রেসিডেন্টর বাসভবন ইউনিটি প্যালেসের দিকে রওনা হন।
রাজধানীর রাস্তায় তাকে স্বাগত জানাতে শাসক দল ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের শত শত সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আধখোলা জানালা দিয়ে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে অভিবাদন জানান। এ সময় তার সমর্থকদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা এবং প্রেসিডেন্টের প্রশংসাসূচক ব্যানার।
বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার স্বাস্থ্য ও দেশ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা তৈরি করেছিল। যদিও কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিয়েছিল যে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
তার অনুপস্থিতি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করে। দেশটিতে ক্ষমতা এখনও প্রেসিডেন্টের চারপাশে ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত।
বিরোধী দলীয় নেতারা প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্য কারও পালন করা উচিত কি না, তা খতিয়ে দেখতে সাংবিধানিক পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরিষদ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ক্যামেরুনের সংবিধান অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট না থাকলে মৃত্যু, পদত্যাগ বা স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কারণে প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য ঘোষণা করা হলে সিনেটের প্রেসিডেন্টকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গত এপ্রিলে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদটি ফের প্রবর্তন করা হলেও বিয়া এখনও কাউকে ওই পদে নিয়োগ দেননি।
সমালোচকেরা বলছেন, স্পষ্ট উত্তরাধিকার কাঠামো না থাকায় ভবিষ্যতে বিয়া দেশ পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়লে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
