ইরান চুক্তিতে ‘বাধা হলে’ মার্কিন মিত্র ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় 'বাধা হলে' দেশটির মিত্র ওমানের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজ-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে আলোচনা করছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে অনেকটাই বন্ধ রয়েছে।
ফক্স নিউজ-এর এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ফোনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ওমানকে উদ্দেশ করে এই হুমকি দেন ট্রাম্প।
এর আগে সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুই দেশের আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিবিসি নিউজের এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, তিনি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়াতে চান কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'না।'
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি অনেকটাই বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া দুই পক্ষের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে ওমানের অবস্থান। চলমান সংঘাতে নিজেদের নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দাবি করে আসছে ওমান। তবে ইরানের বেশ কয়েকটি হামলার শিকার হয়েছে দেশটি। এরপরও হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ওমান।
এদিকে নৌপথটি খুলে দিতে ওয়াশিংটনও আলাদাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফক্স নিউজ-এর প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্ট ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেন, 'ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।'
তবে ট্রাম্পের চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওমানের কোন ধরনের কর্মকাণ্ডকে 'বাধা' হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা স্পষ্ট নয়।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের শক্তিশালী সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগের একটি গোপন চ্যানেল রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি অস্বীকার করেছে আইআরজিসি।
আধা-সরকারি ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, 'আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমেরিকানদের কোনো আলোচনা চলছে না। যুদ্ধের পরাজয় ও হতাশার কারণে ট্রাম্প যে বিভ্রম ও দুঃস্বপ্নে ভুগছেন, এটি তারই কল্পনাপ্রসূত মিথ্যা।'
ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, 'জাহাজ চলাচলের পথের মানচিত্র নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।'
তিনি জানান, যৌথ বিবৃতি প্রকাশের আগে দুই পক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত করবে। এর আগে ওমানও আলোচনাকে 'ইতিবাচক' হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
তবে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর পণ্যবাহী কার্গোর মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি নেওয়ার দাবি করছে তেহরান।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গোপন চ্যানেল থাকার দাবি করলেও যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়া নেই বলে জানান।
ট্রাম্প বলেন, 'তারা ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে। আমার কোনো সময়সীমা নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না।'
গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। তবে এর কিছুদিন পরই দুই পক্ষ আবার হামলা শুরু করলে সমঝোতাটি ভেস্তে যায়।
সোমবার সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, 'ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং সবসময় তাই থাকবে।'
