আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে উড়ন্ত অবস্থাতেই গতিপথ বদলাতে পারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র: আইআরজিসি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার জানিয়েছে, কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এখন উড়ন্ত অবস্থাতেই পরিচালিত হতে এবং গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারবে বলে আনাদোলু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ ইরানের আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহাবির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কাজভিনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, 'ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আর আগের মতো নেই, যা কেবল এক স্থান থেকে উড়ে গিয়ে অন্য স্থানে গিয়ে পড়ত।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন এসব ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ও গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের সময় নিজেদের গতিপথ বদলে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে।'
মোহাবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের এই সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি যেটিকে 'শত্রুর বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক' হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার কিছু অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, তিনি যেটিকে 'প্রযুক্তিগত যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, তাতে ইরানের লক্ষ্য শুধু ভবন ও সরঞ্জামের শারীরিক ক্ষতি করা ছিল না। এর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে আছে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জবাবে তেহরান এমন কয়েকটি আঞ্চলিক দেশে হামলা চালায়, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
এপ্রিল মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে জুনে দুই দেশ তাদের সামরিক সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। এরপর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। সংঘাত নিরসনে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগের খবরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে বোমাবর্ষণ বন্ধ করে দেন।
