এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝআকাশে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) মুখে পড়ে এবং মুহূর্তেই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ফ্লাইট ক্রু'সহ আহত হন ১৭ জন। এই ঘটনায় ওই উড়োজাহাজের পাইলট-ইন-কমান্ডের (প্রধান পাইলট) ডোপ টেস্টের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এ-৩২০ মডেলের 'এআই২৩৭৯' (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভিটি-ইএক্সও) ফ্লাইটটি মাঝআকাশে উড্ডয়নকালে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে।
ঘটনার পর নির্ধারিত জরুরি কার্যপদ্ধতি মেনে দিল্লিতে অবতরণের পরপরই ফ্লাইটের উভয় পাইলটেরই সাইকোঅ্যাকটিভ বা মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী পদার্থের পরীক্ষা করা হয়।
প্রাথমিক স্ক্রিনিং টেস্টে পাইলট-ইন-কমান্ডের ফল "নন-নেগেটিভ" আসে, যা নিশ্চিতকরণের জন্য দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম- দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ টেস্টের ফলাফলে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই প্রধান পাইলটের দেহে গাঁজা বা মারিজুয়ানা ব্যবহারের উপস্থিতি পজিটিভ প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে আজ এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসনের নেতৃত্বে এয়ারলাইনটির একটি প্রতিনিধি দল ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ঘটনাটির তদন্ত চলায় ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন' (ডিজিসিএ) ককপিটের দুই ক্রুকেই (পাইলট) উড্ডয়নকালীন দায়িত্বের রোস্টার থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে।
পুরো ঘটনাটিকে "গুরুতর" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং ভারতের 'এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো' (এএআইবি) এটি তদন্ত করছে।
