ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক থেকে আদায় করা ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিল যুক্তরাষ্ট্র
'লিবারেশন ডে' শুল্ক নীতির আওতায় আদায় করা অর্থের মধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
সম্প্রতি মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে জানিয়েছে, 'লিবারেশন ডে' শুল্ক থেকে সরকারের মোট আদায়কৃত অর্থের প্রায় ৬০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া বাকি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আবেদন বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে। এছাড়া আমদানিকারকেরা ব্যাংক হিসাবের তথ্য না দেওয়ায় আরও ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে।
অর্থনৈতিক জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা ব্যাপক আমদানি শুল্ক আইনসম্মত নয় বলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে রায় দেয়। এরপরই এসব অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ)-এর কথা উল্লেখ করেছিল। ওই আইনে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই শুল্কনীতি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ ছিল, আমদানির ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে আশঙ্কা করা হয়, এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়ে পণ্যের দামও বেড়ে যাবে।
শুল্ক হলো বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত কর। এটি বিদেশি সরকার বা রপ্তানিকারক নয়, বরং পণ্য দেশে প্রবেশের সময় আমদানিকারক বা দেশীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করে। ফলে শুল্ক বাড়লে ব্যবসার খরচও বেড়ে যায়। এতে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ফেরত পেয়েছে।
অ্যামাজন দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে বলে কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ব্রায়ান ওলসাভস্কি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে। বাকি অর্থ পণ্যের দাম কম রাখতে ব্যবহার করা হবে।
মার্কিন কাস্টমস আইনে কেবল যেসব আমদানিকারক সরাসরি শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তারাই অর্থ ফেরতের দাবি করতে পারেন। ফলে ভোক্তারা কোনো সুবিধা পাবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনও বাকি আবেদনগুলো যাচাই করছে এবং আমদানিকারকেরা ব্যাংক তথ্য হালনাগাদ করছেন। ফলে ভবিষ্যতে ফেরত দেওয়া মোট অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ফেব্রুয়ারির আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক আরোপ করে।
গত মাসের শেষ দিকে সেই ব্যবস্থা শেষ হওয়ার পর ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এর কয়েক দিন আগেই কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প।
