কারাগারের চাপ কমাতে প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে বাড়িতে সাজা খাটতে পাঠাবে ইতালি
কারাগারের ক্রমবর্ধমান চাপ ও বন্দি সংখ্যা কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালি সরকার। এখন থেকে অন্তত ১৩,৭০০ জন মাদক ও অ্যালকোহল আসক্ত বন্দিকে কারাগারে থাকার পরিবর্তে বাড়িতে থেকেই সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হবে। বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি নতুন আইন পাস হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে 'একাধিক ফ্রন্টে বিজয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এই আইনের ফলে একদিকে যেমন কারাগারের উপচে পড়া ভিড় কমবে, অন্যদিকে আসক্ত বন্দিদের পুনর্বাসনেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
সাধারণত অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত জর্জিয়া মেলোনি ও তার দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'। তবে এই নতুন আইনের কারণে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে নিজ শিবিরের ডানপন্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। গত বছর মেলোনি সরকার কারাগারে আরও ১৫ হাজার অতিরিক্ত আসন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি।
দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান রবার্তো ভানাসির নেতৃত্বাধীন দল 'ফুতুরো নাজিওনালে' মেলোনির বিরুদ্ধে অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যুতে নমনীয় হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, দলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং মেলোনির জোট সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
নতুন আইনটি পার্লামেন্টে ১৫৩ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪২টি এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ৮২ জন সদস্য। মেলোনির জোটের শরিক দল 'লিগ' এবং 'ফোরজা ইতালিয়া' এই বিলের পক্ষে সমর্থন দিলেও পপুলিস্ট 'ফাইভ স্টার মুভমেন্ট' এবং 'ফুতুরো নাজিওনালে' এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বামপন্থী দলগুলো নীতির দিক থেকে একমত হলেও পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের অপর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটদানে বিরত থাকে।
ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও জানিয়েছেন, দেশটির কারাগারগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৬৫ হাজার বন্দি রয়েছে। নতুন আইনের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মাদকাসক্ত এবং আরও ৩,৭০০ জন অ্যালকোহল আসক্ত বন্দি উপকৃত হতে পারেন।
তবে বন্দি অধিকার সংস্থা 'অ্যান্টিগোন' সরকারের এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি অনেকগুলো শর্তের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া আইনে যে পরিমাণ তহবিলের কথা বলা হয়েছে, তা দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ৬০০ জনেরও কম বন্দির পুনর্বাসন সম্ভব।
লিগ দলের এমপি সিমোনেত্তা মাতোনে বলেন, 'এই আইনের উদ্দেশ্য কারাগার খালি করা নয়, বরং আসক্ত অপরাধীদের আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো। যদি আসক্তিই অপরাধের মূল কারণ হয়, তবে সেই আসক্তির চিকিৎসা করলে ভবিষ্যতে অপরাধের ঝুঁকি কমে যায়।'
