তুরস্ককে এফ-৩৫ দেওয়া নিয়ে নেতানিয়াহুর আপত্তি; ট্রাম্প বললেন, ‘কী বিক্রি করব, তা অন্যরা বলবে না’
তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আপত্তি থাকলেও সেটি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের এক দিন আগে সোমবার এ মন্তব্য করেন তিনি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমারা কী বিক্রি করব, সেটা আমাকে অন্যরা বলবে না। তুরস্ক আমার কাছে অসাধারণ এক মিত্র।'
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং গাজা যুদ্ধের পর তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা আঙ্কারাকে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চলতি মাসের শুরুতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্ক এমন একটি সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে প্রভাবিত। তার দাবি, এই সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এবং 'আমেরিকার মৃত্যু' স্লোগান দেয়।
তিনি তখন বলেন, 'আমার মনে হয় না, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা তাদের যুদ্ধবিমানের জন্য ইঞ্জিন দেওয়া উচিত।'
তবে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেরুজালেম ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনার কথা স্বীকার করলেও তুরস্কের প্রশংসাই করেন। এর আগেও তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা বলেছেন।
ট্রাম্প বলেন, 'তুরস্ক ইসরায়েলের বড় সমর্থক নয়, বিবিরও (নেতানিয়াহু) খুব বড় সমর্থক নয়। কিন্তু তারা আমার জন্য দারুণ ছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'তুরস্ক খুবই শক্তিশালী একটি দেশ। তাদের বিশাল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জামও আছে।'
তুরস্ক একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচির অংশ ছিল। তবে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০২০ সালে দেশটিকে ওই কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এস-৪০০ কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (ক্যাটসা)'-এর আওতায় তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। গত ৭ জুলাই এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, তা এখনো কার্যকর হয়নি।
একজন কংগ্রেস সদস্যকে পাঠানো ওই চিঠিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তুরস্কের এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে হলে তুরস্ককে এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে, ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ব্যবস্থা না কেনার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক এখনো এসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতে শর্ত পূরণ করলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
