তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলা ভারতের সেই বিচারপতি বললেন পুলিশের হামলার ভিডিও দেখার ‘সময় নেই’
ভারতের মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষা বা ন্যাশনাল ইলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নফাঁস বিতর্কে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভে পুলিশি 'সহিংসতা' নিয়ে এক আইনজীবীর আর্জি বুধবার খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতে বলেছে, পুলিশের অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
এর আগে বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' বলা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলে দেন, আদালতের সময় যেন নষ্ট করা না হয়। বিক্ষোভের কোনো ভিডিও দেখতেও অস্বীকার করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে ওই আইনজীবী বলেন, 'যন্তর মন্তরে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ সেখানে নির্মমভাবে দমনপীড়ন চালাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাসও ছোড়া হয়েছে।
এ সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, 'আমাদের আর আপনাদের—কারো সময় নষ্ট করবেন না। আমাদের চেয়ে আপনাদের সময়ের দাম বেশি।"
'ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই'
তবে ওই আইনজীবী জোর দিয়ে বলেন, 'শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের উচিত সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নিট পরীক্ষা নেওয়া…আর অবশ্যই এনটিএ (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) বাতিল করা উচিত।' তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের দাবি—সুষ্ঠু ভর্তিপরীক্ষা, এনটিএর সংস্কার ও প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনা। বেঞ্চ যখন এ বিষয়ে আর শুনতে অনীহা প্রকাশ করে। তখন আইনজীবী বলেন, অনুমতি পেলে তিনি বিক্ষোভের একাধিক ভিডিও দেখাতে পারেন।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, 'ভিডিও দেখতে আমরা আগ্রহী নই। ওসব দেখার সময় আমাদের নেই।'
এর আগে চলতি বছরই বেকার যুবকদের একাংশকে 'তেলাপোকার'র সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের জেরেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তারা।
নিট প্রশ্নফাঁস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই এজলাসে দাঁড়িয়ে এই আর্জি জানান ওই আইনজীবী।
এর একদিন আগেই দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করেছিলেন। দ্রুত তালিকাভুক্তির আবেদন নাকচ করে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'এর মধ্যে আদালতকে টানবেন না।' এরপরই সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এল।
গত ১৫ মে একটি রিট পিটিশনের শুনানির সময় ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রধান বিচারপতি ভারতের তরুণদের একাংশকে 'তেলাপোকা' বলে আখ্যা দেন। তার এ মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি। সেই সিজেপিই এখন দিল্লির যন্তর মন্তরের এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সিজেপির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ইতিমধ্যেই সাধারণ শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে বিরোধীরাও যোগ দিয়েছেন।
সোমবার এই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়, ছোড়া হয় টিয়ার গ্যাস। এতে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন। অনেক বিক্ষোভকারীকে আটকও করে পুলিশ।
নয়াদিল্লি জেলায় ইন্টারনেট শাটডাউন করে দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। পুলিশের এই মারধরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী এমপি-রা। এরপর সংসদে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে অবস্থান নেন। এরপরই দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে দাবি জানান, পুলিশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সেইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পদত্যাগ করতে হবে।
