স্তন্যদানকারী নারী উদ্যোক্তাকে ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে অ্যামাজনের বাধা
নিজের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় অনলাইনভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন পরিচালিত একটি ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পারেননি স্তন্যদানকারী এক নারী উদ্যোক্তা ও বিপণন ফার্মের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
র্যাচেল বিউস নামের ওই নারী জানান, স্কটল্যান্ডের ডানফার্মলাইনে অ্যামাজন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সশরীরে প্রশিক্ষণের এক সপ্তাহ আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করান, তাই ২০ সপ্তাহ বয়সী শিশুটিকে তার সঙ্গে আনতে হবে।
তবে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ট্রেনে থাকা অবস্থায় ফোনে তাকে জানানো হয়, ছয় বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর প্রশিক্ষণস্থলে প্রবেশের অনুমতি নেই।
অ্যামাজন এক বিবৃতিতে বলেছে, 'মিস বিউস প্রশিক্ষণস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আমাদের সাইটে এতে অংশ নেওয়া সংক্রান্ত নীতিমালা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি—এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।'
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, 'এটি হওয়া উচিত ছিল না এবং আমরা তার হতাশা বুঝতে পারছি। আমাদের কোনো ফুলফিলমেন্ট সেন্টারেই ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশের অনুমতি নেই। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি নীতি, যা সব দর্শনার্থী ও কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আমরা আমাদের যোগাযোগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছি।'
বিউস বিবিসির 'দ্য ওয়ার্ল্ড টুনাইট' অনুষ্ঠানে বলেন, শুক্রবারের ওই আয়োজনে একটি ল্যাকটেশন কক্ষ ছিল, যেখানে তিনি সন্তানের জন্য দুধ সংগ্রহ করে রাখতে পারতেন। তবে তিনি এভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যাননি। তাই তার কাছে জীবাণুমুক্ত বোতল বা দুধ সংগ্রহের কোনো সরঞ্জাম ছিল না।
তিনি আরও বলেন, 'সব ধরনের মানুষের জন্য সহজপ্রাপ্যতা ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রতিটি আয়োজনে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।'
বিউস বলেন, 'নতুন মা হওয়া এমনিতেই একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আর ব্যবসা করা আমার পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ ধরনের সুযোগ পাওয়া শুধু আমার জন্যই না, কর্মজীবী ও পেশাজীবী অনেক মায়ের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি জানান, তাকে বলা হয়েছে তিনি ছয় সপ্তাহের কোর্সের অনলাইন অংশ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে এতে তিনি 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো' থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বিউস বলেন, 'সশরীরে অংশ নিয়ে কফির আড্ডায় কিংবা মধ্যাহ্নভোজে যেসব মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, সেসব যোগাযোগ ভবিষ্যতে আমার ব্যবসার জন্য সহায়ক হতে পারত।'
যেসব মা সন্তান জন্মের পর কর্মস্থলে ফিরে গিয়েও বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে চান, তাদের প্রথম কর্মদিবসের আগেই নিয়োগকর্তাকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)।
এনএইচএস বলেছে, 'সন্তান জন্মের পর পুনরায় কাজে, পড়াশোনায় বা প্রশিক্ষণে অংশ নিলেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো পুরোপুরি সম্ভব এবং অনেক নারীই তা করে থাকেন।'
