ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ক্ল্যাইবার মোরান নামের ওই শিশুটিকে লা গুয়াইরা রাজ্য থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। শিশুটির উদ্ধারকে তিনি দেশবাসীর জন্য 'আশার উৎস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উদ্ধারের পর ক্ল্যাইবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ভূমিকম্পের প্রথম তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে এই শিশুটি সেই সময়ের অনেক পরে উদ্ধার হলো।
হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ক্ল্যাইবারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে এখনো আশা রয়েছে। দেশি ও বিদেশি দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। লা গুয়াইরাসহ অন্যান্য রাজ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ কয়েক ডজন দেশের উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
লা গুয়াইরা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধার তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। দানিয়েলা আরমাস নামের ১৮ বছর বয়সী এক বিক্রেতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও খাবারের জন্য মানুষ একে অপরের ওপর চড়াও হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলো বর্তমানে 'ভীষণ চাপের' মধ্যে রয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, টিকাদানের হার কম হওয়ায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে দেশটিতে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে। এর মধ্যে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী, নিরাপদ প্রসবের সরঞ্জাম এবং রোগ প্রতিরোধক ওষুধ রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই ভেনেজুয়েলাবাসী এ পর্যন্ত পাওয়া মৃতদেহগুলো সমাহিত করতে শুরু করেছেন। তবে অনেকেই এখনো নিখোঁজ স্বজনদের দেহের জন্য অপেক্ষা করছেন।
লা গুয়াইরা বন্দরের অস্থায়ী মর্গের সামনে উইলকার মোলাল্লা নামের এক ব্যক্তি তার বোন এবং ভাই-বোনদের সন্তানদের লাশ শনাক্ত করবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, 'আমার পরিবারে ১১ জন সদস্য ছিল। আমরা মাত্র দুজন বেঁচে আছি কারণ আমরা তখন কাজে ছিলাম।'
