তীব্র দাবদাহে প্যারিসে জনসমক্ষে মদ পান ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি
তীব্র দাবদাহের কারণে প্যারিসের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে জনসমক্ষে মদ পান এবং বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত প্যারিসে প্রকাশ্যে মদ্যপান করা যাবে না। একই বিধিনিষেধ শনিবার থেকে রোববার সকাল ৭টা পর্যন্তও কার্যকর থাকবে। তবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার এবং রেস্তোরাঁগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, হাসপাতালের কর্মী সংখ্যা বাড়ানো এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
প্যারিসের পুলিশ প্রধান প্যাট্রিস ফোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'আমরা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছি।'
ফ্রান্সে গত বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সবথেকে উষ্ণতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার রাতে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনকি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নানতেসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জনগণকে তাদের চলাফেরার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, এই গরমে বৃদ্ধদের পাশাপাশি তরুণদের জন্যও ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি জানান, তরুণরাও এখন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্যারিসের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিকের তুলনায় চার গুণ বেশি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের রোগী পেয়েছে।
প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানিয়েছেন, রাজধানীতে মৃত্যুর হার বাড়ছে। তিনি ফরাসি টেলিভিশনে বলেন, 'আমাদের নিজেদের বিপদমুক্ত ভাবা উচিত নয়। আমি বিশেষ করে তরুণদের কথা ভাবছি।'
তিনি আরও বলেন, 'গত রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমি রাস্তায় শ'খানেক মানুষকে জগিং করতে দেখেছি। সত্যি বলতে, এটি একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। কয়েক দিন ব্যায়াম থেকে বিরতি নেওয়া কোনো সমস্যাই নয়।'
উল্লেখ্য, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহ পুব দিকে সরে যাচ্ছে। জার্মানি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের আবহাওয়াবিদরা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছেন। শুক্রবার জার্মানির তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে এবং চেক প্রজাতন্ত্রের একটি বড় অংশে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেছেন, 'ইউরোপের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জলবায়ু সংকটের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।' তিনি দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁঁকতে এবং বন রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
