১২২.৪ ডেসিবল তীব্রতা, উড্ডয়নরত বিমানের মতো শব্দ: বিশ্বের সবচেয়ে জোরে চিৎকারের রেকর্ড গড়লেন তিনি
অস্ট্রেলিয়ার নগর ঘোষক জোসেফ ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ বিশ্বের সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছেন। ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবল তীব্রতায় ইংরেজি 'নাও' (এখন) শব্দটি চিৎকার করে এ রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
ক্যানবেরার ৫৮ বছর বয়সী বাসিন্দা জোসেফ ১৯৯৪ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্কুল শিক্ষক অ্যানেলিসা ফ্ল্যানাগানের করা ১২১.৭ ডেসিবেলের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। অ্যানেলিসা অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে ইংরেজি 'কোয়ায়েট' (শান্ত হও) শব্দটি চিৎকার করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন।
ডেসিবল হলো শব্দের তীব্রতা প্রকাশে ব্যবহৃত পরিমাপের একটি একক। মানুষ স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৬০ ডেসিবল তীব্রতায় কথা বলে থাকে। ৮৫ ডেসিবলের বেশি তীব্রতার শব্দ মানুষের কানের জন্য ক্ষতিকর। ১২২ দশমিক ৪ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ মূলত একটি চেইন স (করাত), উড্ডয়নরত একটি জেট বিমান বা খুব কাছ থেকে শোনা অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দের সমান।
জোসেফ মঙ্গলবার জানান, এই বিশ্ব রেকর্ডের জন্য আলাদা করে কোনো প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, 'আসলে এর জন্য অনুশীলন করার কোনো উপায় নেই। আপনাকে নির্দিষ্ট দিনের জন্যই কণ্ঠস্বরকে জমিয়ে রাখতে হয়।'
তিনি আরও জানান, এই একটি চিৎকার রেকর্ড করতে তাকে সাতবার চেষ্টা করতে হয়েছিল। এর ফলে পরবর্তী কয়েকদিন তার কণ্ঠস্বর প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং গলা ভেঙে গিয়েছিল। তবে তিনি মনে করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দারুণ মজাদার।
জোসেফ নিজেকে বিশ্বের সবথেকে জোরে চিৎকার করা 'ব্যক্তি'র বদলে 'পুরুষ' হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এর আগে উচ্চকণ্ঠের পুরুষ হিসেবে আলাদা কোনো রেকর্ড ছিল না। তিনি বলেন, 'আমি আনন্দিত যে অ্যানেলিসা তার রেকর্ডটি নিজের কাছে রাখতে পারছেন। অর্থাৎ তিনি বিশ্বের উচ্চকণ্ঠের নারী এবং আমি উচ্চকণ্ঠের পুরুষ।'
জোসেফ জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নগর ঘোষকদের কোনো বিশেষ রেকর্ড আছে কিনা তা খুঁজতে গিয়েই তিনি ঘটনাক্রমে অ্যানেলিসার এই রেকর্ডের কথা জানতে পারেন। ২০১৭ সালে ক্যানবেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকারী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার করার বিষয়ে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব লালন করতে শুরু করেন।
গত ২ মে ক্যানবেরার একটি রেডিও স্টুডিওতে একজন পেশাদার শব্দ প্রকৌশলী এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জোসেফের এই চিৎকার রেকর্ড করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় সব ফাইল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে গত শুক্রবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ব রেকর্ডের ঘোষণা দেয়।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে করলেন জোসেফ ম্যাকগ্রেইল-বেটআপ। এর আগে ২০১৯ সালে একজন তীরন্দাজ হিসেবে দ্রুততম সময়ে ১০টি তীর ছোঁড়ার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ৬০.০৩ সেকেন্ডে ১০টি তীর ছুঁড়ে তিনি ২০১৫ সাল থেকে টিকে থাকা রেকর্ডটি সামান্য ব্যবধানে নিজের করে নিয়েছিলেন।
অবশ্য জোসেফের সেই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৯ মাস পরেই ৭ বছর বয়সী এক শিশু তার চেয়ে ১১.৪ সেকেন্ড কম সময়ে তীর ছুঁড়ে সেই রেকর্ডটি ভেঙে দেয়।
জোসেফ তার হারানো রেকর্ড পুনরুদ্ধার করতে কিংবা বর্তমান এই উচ্চকণ্ঠের রেকর্ডটি আজীবন নিজের কাছে রাখতে খুব একটা চিন্তিত নন। তিনি বলেন, 'কেউ যদি আমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে সেটি হবে চমৎকার একটি ব্যাপার। রেকর্ড তো গড়াই হয় ভেঙে ফেলার জন্য।'
