‘খেলা শেষ’: স্টারমারকে কয়েকদিনের আলটিমেটাম, বিদ্রোহে ক্ষমতা হারাতে পারেন যেকোনো মুহূর্তে
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিপুল বিজয়ের পর স্টারমার যদি ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়ান, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এক নজিরবিহীন দলীয় 'বিদ্রোহের' মুখে পড়বেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
লেবার পার্টির নীতি-নির্ধারক ও কয়েকজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তার সময় শেষ। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার গতকাল স্যার কিয়ারকে বলেছেন যে চলতি গ্রীষ্মেই তার পদত্যাগের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
লেবার পার্টির একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র 'ডেইলি মেইল'কে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যদি পদত্যাগে সম্মত না হন, তবে আগামী মঙ্গলবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি তীব্র বিরোধের মুখোমুখি হবেন। ওই সূত্রটি আরও যোগ করে, 'আগামী কয়েক দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা এবং নিজের অবস্থানের বাস্তবতাকে মেনে নিতে রাজি করানো।'
সূত্রটি সতর্ক করে বলে, 'তিনি যদি এখনো নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন, তবে ক্যাবিনেট বৈঠকেই বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেবে। মানুষ এবার আর কোনো টালবাহানা সহ্য করবে না, কারণ এখন লেবার পার্টির সামনে দুটিই পথ খোলা—হয় একটি নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতার হস্তান্তর, নয়তো এমন এক তিক্ত লড়াই যা পুরো সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।'
ক্যাবিনেটের এক সূত্র বলেছে, 'খেলা শেষ হয়ে গেছে'। অন্যদিকে একজন মন্ত্রী স্টারমারকে 'ডেড ম্যান ওয়াকিং' হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেন, তবে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে-র প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে পার্লামেন্টে ফিরে আসার পর বার্নহ্যাম ব্রিটেনের জন্য 'একটি নতুন পথ' তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।
নিজেদের প্রথম দুই বছরের বিপর্যয়কর শাসনের পর জনগণের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের জন্য এই উপ-নির্বাচন লেবার পার্টির 'শেষ সুযোগ' ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বার্নহ্যাম। ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সহজ জয় পাওয়া এই বামপন্থী নেতার উত্থান দেশের জন্য এক 'যুগান্তকারী মোড়' হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তার সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক নীতি—যেমন গ্যাস-বিদ্যুতের মতো জনসেবামূলক খাতগুলোর জাতীয়করণ, কাউন্সিল হাউজিংয়ে বিপুল বিনিয়োগ এবং এইচএস২ রেল প্রকল্পের উত্তরাংশের পুনরুজ্জীবন কর বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেইগ সতর্ক করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তার শেষটা হবে 'নিষ্ঠুর'। তিনি জানান, বার্নহ্যামের দলের নেতৃত্ব পাওয়ার জোর প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন 'একেবারে প্রস্তুত রয়েছে'।
তবে কিয়ার স্টারমার হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, দলের নেতৃত্বের এই লড়াই লেবার পার্টিকে চরম 'বিশৃঙ্খলার' মধ্যে ফেলে দেবে।
দেশের জনগণের কাছ থেকে তার 'খুব শক্তিশালী ম্যান্ডেট' রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'লড়াই যদি হয়, তবে আমি তাতে লড়ব। আমি বারবার বলেছি, আমি এখান থেকে পালিয়ে যাব না।' স্টারমার চলমান সংকট ও মন্ত্রীদের সম্ভাব্য পদত্যাগের ঢেউ কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাবেন চেকার্স-এ।
সাবেক ফ্রন্টবেঞ্চার অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, সসম্মানে বিদায় নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে মাত্র 'কয়েক দিন' সময় আছে। সদ্য সরকারে যোগ দেওয়া হ্যারিয়েট হারম্যানও সতর্ক করেছেন যে লেবার এমপিরা 'হুড়মুড় করে' বার্নহ্যামের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি সাধারণ লেবার সদস্যদের এই নেতৃত্বের লড়াইয়ের ভোটাভুটি থেকে দূরে রেখে কেবল এমপিদের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দাবি জানান।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরে চলমান এই নাটকীয় পরিস্থিতিতে বেশ কিছু বড় ঘটনা ঘটেছে—প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা লেবার এমপির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে তার সাবেক অনুসারীরাও রয়েছেন।
অ্যাবারডিন সাউথ উপ-নির্বাচনে কেমি ব্যাডনক ঐতিহাসিক বিজয় উদযাপন করছেন, যেখানে উত্তর সাগরে নতুন তেল উত্তোলনে লেবার পার্টির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্ক ছিল।
রিফর্ম ইউকে-র নেতা নাইজেল ফারাজ মেকারফিল্ডে তার দলের খারাপ ফলাফলে 'হতাশা' প্রকাশ করেছেন।
বার্নহ্যামের পক্ষে বামপন্থীরা একজোট হচ্ছেন এই আশায় যে তিনি লেবার পার্টির মডারেট বা মধ্যপন্থী ইশতেহার বাতিল করে সরকারি ব্যয়ের দুয়ার খুলে দেবেন।
সাবেক লেবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালান জনসন এলবিসি-কে বলেন, বার্নহ্যাম যদি সত্যিই বড় পরিবর্তন আনতে চান, তবে তাকে এ বছরই সাধারণ নির্বাচন ডেকে 'নিজস্ব ম্যান্ডেট' চাইতে হবে। তার মতে, এক দশকে ছয়জন প্রধানমন্ত্রীর পর সপ্তম জনকেও কোনো ভোট ছাড়া জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া 'সাধারণ মানুষ সহ্য করবে না'।
