এত ডাক্তার কেন? ২২ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য পরীক্ষা; কারণ জানায়ানি হোয়াইট হাউস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ২২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রকাশিত চিকিৎসা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের একক স্বাস্থ্য মূল্যায়নে এত বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অংশগ্রহণের নজির আগে পাওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের 'সম্পূর্ণ ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন' নিশ্চিত করতেই এত বড় চিকিৎসক দল যুক্ত করা হয়েছিল। ট্রাম্পের চিকিৎসক শন বারবাবেলা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তিনি 'চমৎকার স্বাস্থ্যের' অধিকারী।
তবে এত বিপুলসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিছু বাইরের চিকিৎসক। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির দীর্ঘদিনের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জনাথন রাইনার বলেন, 'এটি অস্বাভাবিকভাবে বড় একটি সংখ্যা। তারা কোন কোন বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং এতজনের প্রয়োজন কেন হলো—সেটি জানা দরকার।'
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরা এই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২২ জনের মধ্যে কিছু সাধারণ চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। গত বছর ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে তিনি কেন দ্বিতীয়বার শারীরিক পরীক্ষা করিয়েছিলেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। সাধারণত প্রেসিডেন্টরা বছরে একবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। জরুরি পরিস্থিতি না থাকলে অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চিকিৎসা প্রতিবেদনে তার প্রথম মেয়াদে ব্যবহৃত চুল পড়া রোধের ওষুধ 'ফিনাস্টেরাইড'-এর উল্লেখও আর নেই। তিনি এখনও ওষুধটি গ্রহণ করছেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে এই আলোচনা আরও গুরুত্ব পেয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ট্রাম্পের বয়স নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণে। বাইডেন ৮২ বছর বয়সে দায়িত্ব ছাড়েন, আর ট্রাম্প ১৪ জুন ৮০ বছরে পা দেবেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক দুই প্রেসিডেন্ট।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তৎকালীন প্রেস সচিব কারিন জ্যঁ-পিয়ের জানান, ওই বছর ওয়াল্টার রিডে বাইডেনের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে ২০ জন চিকিৎসকের একটি দল অংশ নিয়েছিল।
অতীতে বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসন সাধারণত প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ঐতিহ্যগতভাবে এসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারেই সম্পন্ন হয়ে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে দুই দলেরই আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে আরও জবাবদিহি্তা নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে প্রকাশিত নথি ও বিভিন্ন সময়ের বিবৃতি থেকে দেখা যায়, প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে যুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংখ্যা ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের প্রথম স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নিয়েছিলেন। তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশের ২০০১ সালের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ছিলেন ২ জন বিশেষজ্ঞ।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ১৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ এবং গত বছরের পরীক্ষায় ছিল ১৪ জন। সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সেই সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে পৌঁছেছে।
