ইরান ক্ষতিপূরণ চেয়েছে, ভালো আইডিয়া; এবার আমরাও ওদের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ চাইব: ট্রাম্প
ইরান-সমর্থিত হামলায় নিহত ও আহত মার্কিন নাগরিকদের জন্য তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদের তিনি 'ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি যুক্ত করতে' নির্দেশ দিয়েছেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'আমি দেখছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিনিধিরা গত পাঁচ মাসের সামরিক সংঘাতে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন (এই সংঘাত শুরু হয়েছিল কারণ, তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না); যদিও আমাদের কোনো আলোচনা বা বৈঠকেই এর আগে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি!'
তেহরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে তিনি 'একটি ভালো আইডিয়া (বুদ্ধি)' বলে উল্লেখ করেন। এরপর পাল্টা একই ধরনের ক্ষতিপূরণ দাবি করে তিনি বলেন, ইরান তাদের সড়কপথে পেতে রাখা বোমা এবং বিভিন্ন সংঘাতে যেসব মানুষকে হত্যা ও গুরুতর আহত করেছে, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব সংঘাতের জন্য ইরান 'পরিচিত' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি 'যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার' মানুষের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে ২০০০ সালে ইউএসএস কোল যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহত প্রায় ৪০ জনের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। যদিও ওই হামলাটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, আল-কায়েদা চালিয়েছিল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, গত ৫০ বছরে ইরান যে 'শত শত হাজার নিরীহ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে', তাদের পরিবারের জন্যও দেশটির ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি গত পাঁচ মাসে নিহত '৫২ হাজার' মানুষের পরিবারের জন্যও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ট্রাম্প কীভাবে গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৫২ হাজার বলে দাবি করলেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজারের কিছু বেশি।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাসের মাথায় সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বশেষ এই মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও গোলাবারুদের সংকটে রয়েছে।
শনিবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর ছয়টি শর্তের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এসব শর্ত মানতে হবে।
শর্তগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানকে দেওয়া হুমকি এবং ইরানের জাতীয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কথিত অপমানজনক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে; ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে; যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিয়ে অঞ্চলটি থেকে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী সরিয়ে নিতে হবে; ইরানের ভাষায় দুটি 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে।
ইরানের কর্মকর্তারাও সপ্তাহের শেষে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন তারা। তবে ওয়াশিংটন ওই ছয়টি শর্ত না মানলে কোনো চুক্তির মাধ্যমেই প্রণালিটি আবার জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে না।
জুনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা ছিল।
ওই দুই মাসের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
