হরমুজ দিয়ে গোপনে প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর কাছে এলএনজি পাঠাচ্ছে কাতার
হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্বালানি সরবরাহকারীরা তাদের প্রধান ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই তিনটি ট্যাঙ্কার জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
ব্লুমবার্গের সংকলিত শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, 'আল রাইয়ান'নামক একটি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করার পর— এটিকে আজ সোমবার ওমানের মাস্কাটের উত্তরে দেখা গেছে। জাহাজটি এখন চীনের দিকে যাচ্ছে। গত ২২ মে পারস্য উপসাগরে কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করার সময়—জাহাজটি ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। উল্লেখ্য, গত বছর কাতারের এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন।
ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শেষের দিকে কাতারি এলএনজি বোঝাই করা আরেকটি জাহাজ 'ফুওয়াইরিত'-ও রবি ও সোমবারের মধ্যে এই প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। ফুওয়াইরিত জাহাজটি রোববার হরমুজ প্রণালির মাঝামাঝি থাকার সময় সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয় এবং পরে মাস্কাটের উত্তরে আবার সেটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজটি এখন পাকিস্তানের দিকে যাচ্ছে।
পারস্য উপসাগরের এলএনজি রপ্তানিকারকরা গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে আটকে থাকা জ্বালানি বাইরে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (অ্যাডনক) ডাস আইল্যান্ড রপ্তানি কেন্দ্র থেকে জ্বালানিবোঝাই একটি ট্যাঙ্কার হরমুজ ছেড়ে গেছে এবং সেটিকে ভারতের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে গত রোববার মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।
তবে, হরমুজ দিয়ে এই সফল ট্রানজিটগুলো যুদ্ধপূর্ব এলএনজি বাণিজ্য প্রবাহের তুলনায় সামান্য একটি অংশ মাত্র। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এপর্যন্ত মাত্র সাতটি এলএনজি চালান কোনোমতে হরমুজ পারি দিতে পেরেছে। অথচ সংঘাত শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিনটি করে ট্যাঙ্কার বের হতো।
'আল রাইয়ান' জাহাজটির মালিক জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি কিসেন কাইশা এবং 'ফুওয়াইরিত'-এর মালিক মিতসুই ওএসকে লাইন্স লিমিটেডের অন্তর্ভুক্ত একটি যৌথ উদ্যোগ। কাওয়াসাকি কিসেন, মিতসুই ওএসকে এবং কাতারএনার্জি এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
