৫ দিনে দ্বিতীয়বারের মতো পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ল ভারতে
ভারতের বড় শহরগুলোতে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। সোমবার তেল কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রয়মূল্য পুনঃনির্ধারণ করায় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের এই দাম বাড়ল।
নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৮৭ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৬৪ রুপি, যা আগে ছিল ৯৭.৭৭ রুপি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৯১.৫৮ রুপি।
মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ৩ রুপি বাড়ানো হয়েছিল। পাঁচ দিনের মাথায় নতুন করে এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর পরিবহন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের বড় শহরগুলোর মধ্যে কলকাতায় জ্বালানির দাম সবথেকে বেশি বেড়েছে। সেখানে পেট্রোলের দাম ৯৬ পয়সা বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১০৯.৭০ রুপি। আর ডিজেল ৯৪ পয়সা বেড়ে এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯৬.০৭ রুপিতে।
চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম ৮২ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৪৯ রুপি এবং ডিজেল ৮৬ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৬.১১ রুপি। দেশটির চারটি প্রধান মেট্রো শহরেই পেট্রোল ও ডিজেল উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য হারে দাম বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভারতের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, আর ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১০৭ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে, ফলে বিশ্ববাজারের সামান্য হেরফেরও দেশের খুচরা দামে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
দেশটিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হলো রাশিয়ার তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়া। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুযোগ দিয়েছিল, তার মেয়াদ গত শনিবার শেষ হয়েছে। গত দুই বছর ভারত সস্তায় রুশ তেল কিনে আমদানির খরচ সামাল দিয়েছিল। এখন সেই সুবিধা কমে আসায় এবং বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল কোম্পানিগুলো কয়েক মাস পর খুচরা বাজারে দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ভারতের শোধনাগারগুলো যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেয়, তবে তাদের বিকল্প ও দামী উৎসের দিকে ঝুঁকতে হবে। এর ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা রুপির মান কমিয়ে দেবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
পেট্রোল ও ডিজেলের এই দাম বাড়ার প্রভাব কেবল জ্বালানি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে গণপরিবহনের ভাড়া, বিমানের টিকিট, খাদ্যদ্রব্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার ওপর।
