Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Tuesday
May 19, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
TUESDAY, MAY 19, 2026
অবরুদ্ধ হরমুজ আর তেলের খোঁজ: বিকল্প বাণিজ্যপথ হয়ে ওঠার সম্ভাবনায় সিরিয়া

আন্তর্জাতিক

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
18 May, 2026, 09:10 pm
Last modified: 18 May, 2026, 09:46 pm

Related News

  • সার সংকটের তীব্র ধাক্কা: বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে
  • তিন-চার মাস মার্কিন নৌ অবরোধ সহ্য করে টিকে থাকার ক্ষমতা আছে ইরানের: সিআইএ প্রতিবেদন
  • সোমবার থেকে হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ সরাতে ‘সহায়তা’ করবে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প 
  • হরমুজ ও আধুনিক বিশ্বের আলোচিত অন্যান্য নৌ অবরোধ
  • হরমুজ প্রণালি অবরোধের মধ্যেই ইরানের জন্য বিকল্প বাণিজ্যপথ খুলে দিল পাকিস্তান

অবরুদ্ধ হরমুজ আর তেলের খোঁজ: বিকল্প বাণিজ্যপথ হয়ে ওঠার সম্ভাবনায় সিরিয়া

তাদের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর যেমন রয়েছে, তেমনি তুরস্ক, ইরাক, জর্ডান ও লেবাননের সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত সংযোগও রয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
18 May, 2026, 09:10 pm
Last modified: 18 May, 2026, 09:46 pm
কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ স্থলপথে তেল ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে এসে সিরিয়ার বন্দরগুলো দিয়ে বিশ্ববাজারে পাঠানো শুরু করেছে। ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভাবনীয় এক অর্থনৈতিক সুযোগের দরজা খুলে গেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার সামনে।

একসময় বিশ্ববাজারে তেলের চালানের বিশাল একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পার হতো। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৌশলগত এই জলপথটি বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে আশীর্বাদ হয়ে আবির্ভূত হয়েছে সিরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান। 

কারণ, তাদের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর যেমন রয়েছে, তেমনি তুরস্ক, ইরাক, জর্ডান ও লেবাননের সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত সংযোগও রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সিরিয়া এখন এক 'লাইফলাইন' বা শ্বাস নেওয়ার বিকল্প পথ।

ইতিমধ্যে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ স্থলপথে তেল ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে এসে সিরিয়ার বন্দরগুলো দিয়ে বিশ্ববাজারে পাঠানো শুরু করেছে।

সিরিয়ার সীমান্ত ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মাজেন আল্লৌশ বলেন, 'হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশ আমাদের বন্দরগুলো ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে কড়া নাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এমন ভাবনা থেকে তারা এখন বিকল্প বা 'প্ল্যান-বি' হিসেবে সিরিয়াকে প্রস্তুত রাখছে।'

অবশ্য এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সিরিয়াকে পাহাড়সম বাধা পার হতে হবে। প্রায় ১৪ বছরের প্রলম্বিত গৃহযুদ্ধে দেশটির রাস্তাঘাট, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামো একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; রয়েছে চরম বিদ্যুৎ ও পানিসংকট। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়েই দেশটিতে রক্তাক্ত এই গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।

গত বছর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ধ্বংসযজ্ঞ। ছবি: এমিল ডুকা, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের করিডোর হিসেবে সিরিয়ার ইতিহাস বেশ পুরনো। সিরিয়ার ফ্রি-জোন কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ পরিচালক হাজেম আলসাপতি মনে করিয়ে দেন, 'প্রাচীন সিল্ক রুটের একটি বড় অংশ এই সিরিয়ার ওপর দিয়েই গিয়েছিল, যা সেসময় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ ছিল।'

এমনকি ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও এই ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলো ব্যবহারের লোভেই আসাদ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চেয়েছিল।

আসাদের শাসনামলে ইরান এই সিরিয়াকে ব্যবহার করেই লেবাননে তাদের আঞ্চলিক মিত্র হিজবুল্লাহর কাছে টাকা ও অস্ত্র পাঠাত। কিন্তু আসাদের পতনের পর নতুন সরকার বা বিদ্রোহীরা স্বাভাবিকভাবেই আসাদের বন্ধু ইরানকে বয়কট করে। এর মধ্য দিয়ে অস্ত্র পাচারের পুরোনো সেই পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের অনেক দেশ এতে জড়িয়ে পড়লেও সিরিয়া এবার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। চারদিকে গোলাগুলি চললেও তারা সরাসরি এ যুদ্ধে না জড়িয়ে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখে।

চলতি মাসের শুরুতে উত্তর-পশ্চিম ইরাক থেকে সিরিয়ায় একটি নিরাপত্তা বাহিনী অতিক্রমকারী একটি ট্রাক। ছবি: ফরিদ আব্দুলওয়াহেদ/অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

এদিকে পণ্য পরিবহনের রুট বন্ধ থাকায় পাশের দেশ ইরাক পড়েছিল চরম বিপাকে। বিদেশে তেল পাঠাতে না পারায় তাদের অপরিশোধিত তেলের মজুত কেবলই বাড়ছিল। সিরিয়া পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কর্মকর্তা সাফওয়ান আহমাদ জানান, এই অবস্থায় ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি (SOMO) বাধ্য হয়ে সিরিয়ার কাছে জানতে চায়—তারা সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় 'বানিয়াস বন্দর' ব্যবহার করে তেল রপ্তানি করতে পারবে কি না।

বিধ্বস্ত অর্থনীতির সিরিয়ার কাছে এ যেন ছিল আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া! বন্দর ও রাস্তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি এখন ট্রানজিট ফি এবং বিভিন্ন চার্জ পাচ্ছে, যা তাদের রুগ্‌ণ অর্থনীতিতে নতুন করে রক্ত সঞ্চালন করছে।

তবে সিরিয়ার নতুন নেতারা শুধু এই সাময়িক লাভের দিকেই তাকিয়ে নেই; তাদের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। তারা অন্য দেশ ও বড় কোম্পানিগুলোকে এই বার্তা দিতে চাইছেন—সিরিয়ার চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থানের পুরোপুরি সুবিধা নিতে হলে, সবার আগে এ দেশের ভগ্নপ্রায় রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো মেরামতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ 'আল-তানফ' সীমান্ত ক্রসিংয়ের কথা বলা যায়। এই পথ দিয়ে ইরাক থেকে সিরিয়ায় তেল আনা সবচেয়ে সহজ, কিন্তু গৃহযুদ্ধের কারণে এটি বছরের পর বছর পরিত্যক্ত ছিল। কাস্টমস কর্মকর্তা আল্লৌশ জানান, এই ক্রসিংটি পুরোপুরি ঠিকঠাক করতে আরও কয়েক মাস লাগতে পারে, আর এতে খরচ হবে প্রায় আড়াই কোটি (২৫ মিলিয়ন) ডলার।

এপ্রিল মাসে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে গ্রিক পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘আসাহি প্রিন্সেস’। ছবি: বাকর আলকাসেম/এএফপি

কিন্তু সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই হাতের মুঠোয় আসা এই সুযোগ হারাতে চায়নি। তাই তারা দ্রুত ক্রসিংটি সচল করতে সেখানে অস্থায়ী ঘর, কম্পিউটার, বর্ডার কন্ট্রোল ও পাসপোর্ট টিম পাঠিয়ে দেয়। উদ্দেশ্য—যেকোনোভাবে যেন কাজটা দ্রুত শুরু করা যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চের শেষ দিকে ইরাক থেকে তেলবাহী লরির প্রথম বিশাল চালান সিরিয়ায় ঢোকে। এখন কোনো কোনো দিন প্রায় ৪০০টির মতো দানবীয় ট্রাক সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে থাকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ গ্যালন অপরিশোধিত তেল!

তবে সাফওয়ান আহমাদ এবং ইরাকি কর্মকর্তারা জানান, সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে তেল মজুত রাখার ধারণক্ষমতা কম থাকায় এই ট্রাকের সংখ্যা মাঝে মাঝে কিছুটা কমাতে হয়।

সাফওয়ান আরও জানান, বানিয়াস বন্দর থেকে উত্তর ইরাকের কিরকুক পর্যন্ত একটি পুরোনো তেলের পাইপলাইন ছিল, যা গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায়। আশার কথা হলো, বেশ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি এখন ওই পাইপলাইন মেরামতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, 'ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি খুললেও, বিশ্বের দেশগুলোকে এখন বিকল্প পথের কথা ভেবে রাখতেই হবে।' যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আর সেই বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সমুদ্রের সাথে মূল সেতু হয়ে উঠবে এই সিরিয়াই।'

শুধু তেল নয়, সিরিয়ার স্থলভাগও এখন বিশাল বাণিজ্যের কাজে লাগছে। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০০টি গাড়ির একটি বড় চালান জর্ডান হয়ে সড়কপথে প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় ঢোকে। পরে সিরিয়ার লাতাকিয়া বন্দর থেকে সেসব গাড়ি জাহাজে করে ইউরোপে পাঠানো হয়।

দুবাইয়ের প্রখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমার প্রপার্টিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলাব্বার জানান, তাঁর কোম্পানি সিরিয়ার উপকূলে ৭ বিলিয়ন এবং রাজধানী দামেস্কে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা ভাবছে। গত সপ্তাহে দামেস্কে অনুষ্ঠিত হওয়া 'সিরিয়া-আমিরাত ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ এই বিশাল ঘোষণা দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ কারাম শার পুরো পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, 'সিরিয়ার জন্য সত্যিই এখন এক দারুণ সৌভাগ্যের সময় চলছে।' আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিরিয়ার নতুন প্রশাসন দেশটিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের (সরবরাহ ব্যবস্থা) অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত মাসে সাইপ্রাসে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, মধ্য এশিয়া ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে ইউরোপের সাথে জুড়তে সিরিয়াই হতে পারে সবচেয়ে সুরক্ষিত ও কৌশলগত করিডোর।

কাস্টমস কর্মকর্তা আল্লৌশ গ্রিক রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতের পর জানান, 'প্রেসিডেন্ট শারা এ যুদ্ধের একদম শুরুর দিকেই আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি তখন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে—আমাদের সীমান্ত, বন্দর ও সড়ক উন্মুক্ত, আমরা বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।'

বর্তমানে শারার সরকার গৃহযুদ্ধের সময় থমকে যাওয়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প ও অবকাঠামো মেরামতের কাজে হাত দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ 'আরব গ্যাস পাইপলাইন'-এর কথা বলা যায়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে মিসর থেকে জর্ডান ও সিরিয়া হয়ে লেবাননে প্রাকৃতিক গ্যাস যাওয়ার কথা ছিল, যার কাজ এখন পুনরায় শুরু হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ কারাম শার জানান, এই মেগা প্রজেক্টগুলো চালু করার পেছনে রাজনৈতিক মহলে এখন প্রচণ্ড সদিচ্ছা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে তাঁর কনসাল্টিং ফার্মের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। আর সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো—খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এসব উদ্যোগে দারুণ ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।

আসাদ সাম্রাজ্যের পতনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার একঘরে দশা কাটতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বঞ্চনার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে দেশটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও মজবুত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে শুরু করেছে।

তবে পথ এতটা মসৃণ নয়। গত বছর বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে জানানো হয়, সিরিয়াকে নতুন করে গড়ে তুলতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে শুধু রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিযোগাযোগের মতো মৌলিক অবকাঠামো ঠিক করতেই লাগবে ৮০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র যদিও সিরিয়ার ওপর থেকে প্রায় সব বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, তবুও দেশটি এখনো 'সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্রগুলোর' তালিকায় রয়ে গেছে। এই তকমা থাকার কারণে দেশটিতে এখনও কিছু কড়া আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

দীর্ঘ ১৪ বছর আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর, গত বছর সিরিয়া প্রথমবারের মতো পশ্চিমা একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সফলভাবে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার করে। বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরার ক্ষেত্রে এটি ছিল তাদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। তবে এর এক বছর পেরিয়ে গেলেও সিরিয়া এখনো 'সুইফট' (আন্তর্জাতিক ব্যাংক ট্রান্সফার) সিস্টেমের সাথে যুক্ত হতে পারেনি, যা বড় বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এখনও একটি বড় মাথাব্যথার কারণ।

সবচেয়ে বড় হতাশার বিষয় হলো—আল-শারা সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিষ্ক্রিয় সংসদ। নির্বাচনের পর প্রায় নয় মাস কেটে গেলেও দেশের এই রাজনৈতিক স্থবিরতা সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণকে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলিয়ে রেখেছে।

এপ্রিল মাসে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে ডিজেল বোঝাই ইরাকি ট্রাকের বহর তাদের পণ্য খালাসের জন্য অপেক্ষা করছে। ছবি: বাকর আলকাসেম/এএফপি

অর্থনীতিবিদ শার সতর্ক করে আরও একটি কঠিন সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, 'সিরিয়াতে আগে থেকেই বড় বড় প্রজেক্টের ঘোষণা দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখে না।'

তা সত্ত্বেও, হাজারো বাধা ডিঙিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সিরিয়া চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছে না। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন সিরিয়ার 'ফ্রি ট্রেড জোন'গুলো (বিমানবন্দর বা বন্দরের কাছের শুল্কমুক্ত কারখানা ও গুদাম) চালু করতে নেমেছে। সেখানে নিদেনপক্ষে মৌলিক পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করে তারা দ্রুতই সেগুলো বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে চায়।

ফ্রি জোনের কর্মকর্তা আলসাপতি অকপটেই স্বীকার করেন, 'একজন বিনিয়োগকারী কাজ শুরু করতে এসে যদি দেখেন যে বিদ্যুৎ, পানি বা রডের মতো কাজের অত্যন্ত জরুরি জিনিসগুলোই নেই, তখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।'

পাশাপাশি তিনি সিরিয়ানদের এই বলেও সতর্ক করেন যে, তাদের আচরণে যেন এটা প্রকাশ না পায় যে তারা অপরের দুর্গতি বা যুদ্ধের সুযোগ নিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, 'আমরা কখনওই দুনিয়াকে এমন বার্তা দিতে চাই না যে, এই যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণেই আজ আমাদের এই সফলতা।'

Related Topics

টপ নিউজ

সিরিয়া / বিকল্প বাণিজ্যপথ / হরমুজ অবরোধ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফরতর কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ছবি: টিবিএস
    চার খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
  • প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
    ক্রেতাদের চাপ, বিদ্যুতের খরচ কমানো: সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা
  • জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (বামে) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
    মিটিং শেষে বাইরে গিয়ে গালিগালাজ করেন পাটওয়ারী, এতে আমরা অভ্যস্ত, একদমই ক্ষুব্ধ নই: সিইসি
  • ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান এবং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    গোলাবারুদ নিয়ে ইসরায়েলে নামল কয়েক ডজন মার্কিন বিমান, ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি
  • ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচির কাছে উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহুজাতিক মহড়া ‘আমান-২৩’-এর সমুদ্র পর্বে উড়ে যাচ্ছে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। ছবি: রয়টার্স
    ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদিতে যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ও ৮ হাজার সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের
  • ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
    বাজেটে স্বস্তি থাকতে পারে হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের জন্য

Related News

  • সার সংকটের তীব্র ধাক্কা: বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে
  • তিন-চার মাস মার্কিন নৌ অবরোধ সহ্য করে টিকে থাকার ক্ষমতা আছে ইরানের: সিআইএ প্রতিবেদন
  • সোমবার থেকে হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ সরাতে ‘সহায়তা’ করবে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প 
  • হরমুজ ও আধুনিক বিশ্বের আলোচিত অন্যান্য নৌ অবরোধ
  • হরমুজ প্রণালি অবরোধের মধ্যেই ইরানের জন্য বিকল্প বাণিজ্যপথ খুলে দিল পাকিস্তান

Most Read

1
আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফরতর কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

চার খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

2
প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশ

ক্রেতাদের চাপ, বিদ্যুতের খরচ কমানো: সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

3
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (বামে) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

মিটিং শেষে বাইরে গিয়ে গালিগালাজ করেন পাটওয়ারী, এতে আমরা অভ্যস্ত, একদমই ক্ষুব্ধ নই: সিইসি

4
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান এবং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

গোলাবারুদ নিয়ে ইসরায়েলে নামল কয়েক ডজন মার্কিন বিমান, ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি

5
২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচির কাছে উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহুজাতিক মহড়া ‘আমান-২৩’-এর সমুদ্র পর্বে উড়ে যাচ্ছে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদিতে যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ও ৮ হাজার সেনা মোতায়েন পাকিস্তানের

6
ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
অর্থনীতি

বাজেটে স্বস্তি থাকতে পারে হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের জন্য

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net