আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই, এটাই আলোচনার প্রধান বাধা: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং এই আস্থাহীনতাই পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ অবসানে আলোচনার পথে 'প্রধান বাধা'। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে সবকিছু অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে আরাকচি বর্তমানে দিল্লি সফরে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস আরাকচি বলেন, "আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। এটি একটি বাস্তব সত্য এবং যেকোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথে এটিই মূল বাধা। আমি মনে করি আপনারা সবাই জানেন যে, আমেরিকানদের বিশ্বাস না করার যথেষ্ট কারণ আমাদের আছে, যেখানে আমাদের বিশ্বাস না করার মতো কোনো কারণ তাদের নেই।"
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এখন যুদ্ধের ৪০ দিন পর, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসনে কোনো লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে আশাহত হয়েছে, তখন তারা আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমরা আলোচনায় আগ্রহী, তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যদি অন্য পক্ষ আন্তরিক হয় এবং প্রকৃত আলোচনার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে।"
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনামলের বিনা উস্কানিতে চালানো এক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, "এটি আসলে দ্বিতীয়বার যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা শুরু করেছিলাম এবং ঠিক সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝপথেই তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল।"
আরাকচি বলেন, "সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আস্থার প্রশ্ন। আমরা আমেরিকানদের একদমই বিশ্বাস করতে পারি না। কোনো চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আগে সবকিছু খুব স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।" তিনি আরও জানান, আমেরিকানদের কাছ থেকে পাওয়া 'পরস্পরবিরোধী বার্তা'র কারণে বর্তমান আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, "প্রতিটি দিন আগের দিনের চেয়ে আলাদা। আজকের একটি টুইট গতকালের টুইট থেকে ভিন্ন। মাঝে মাঝে একদিনেই আমরা দুটি ভিন্ন বার্তা পাই। এটি আস্থাহীনতার প্রশ্নটিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।"
ইরানের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ইরান তার জনগণের বিরুদ্ধে চালানো এক নৃশংস যুদ্ধ প্রতিরোধ করেছে। তারা তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এটা স্পষ্ট যে, তারা সামরিকভাবে যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে বসেও অর্জন করতে পারবে না।"
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা এখনও ব্যর্থ হয়নি। তবে আমেরিকানদের আচরণ এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান আস্থাহীনতার কারণে এটি অত্যন্ত কঠিন পথ পাড়ি দিচ্ছে। এ সময় তিনি চীনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "আমরা যেকোনো দেশের সহায়তাকে স্বাগত জানাই, বিশেষ করে চীন। চীন অতীতে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। চীনের সাথে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা কৌশলগত অংশীদার এবং আমরা জানি যে চীনাদের উদ্দেশ্য ভালো। তাই কূটনীতিতে তারা যা করতে পারবে, তা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান স্বাগত জানাবে।"
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরাকচি বলেন, "ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি এবং ২০১৫ সালের চুক্তিতে সই করার মাধ্যমে আমরা তা প্রমাণ করেছি। আমরা বারবার বলেছি যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না এবং এটি আমাদের নীতি নয়। আমাদের একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে এবং আমরা সবসময় অন্যদের আশ্বস্ত করতে ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে প্রস্তুত যে আমাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, "আমাদের মতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সেই দেশগুলোর নৌযান ছাড়া বাকি সব জাহাজ এর ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারবে।"
