১.২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হলেও সব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারবে না ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে যেই 'গোল্ডেন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েছেন, সেটি তৈরি, মোতায়েন ও পরিচালনা করতে আগামী ২০ বছরে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। বাজেট বিশ্লেষক সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) একটি প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
এই অঙ্কটি প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ১৭৫ বিলিয়ন ডলার বাজেটের তুলনায় অনেক বেশি। আবার যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত এই ব্যবস্থা যে কার্যকরী হবে- এমনটাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
সিবিওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, রাশিয়া বা চীনের পূর্ণমাত্রার আক্রমণের মুখে 'গোল্ডেন ডোম' দুর্বলও হয়ে পড়তে পারে।
বাজেট বিশ্লেষক এই সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুধু সরঞ্জাম সংগ্রহের খরচই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। এর মধ্যে থাকবে ইন্টারসেপ্টর স্তরসমূহ এবং মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা।
গত বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প এই প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর লক্ষ্য ছিল আকাশপথে আসা 'পরবর্তী প্রজন্মের' হুমকিকে মোকাবিলা করা।
গত বছর ট্রাম্প বলেছিলেন, এই কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মোট ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলি গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ''প্রেসিডেন্টের তথাকথিত 'গোল্ডেন ডোম' আসলে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের জন্য বিশাল অঙ্কের সুবিধা ছাড়া আর কিছু নয়, যার পুরো খরচ বহন করবে সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকানরা।''
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশটি আদৌ সক্ষম হবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই সংশয় ছিল। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কাছে থাকা ক্রমর্ধমান অত্যাধুনিক অস্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার মতো নয়।
সিবিও বলেছে, 'গোল্ডেন ডোমের' সম্ভাব্য বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও, 'সমমানের বা কাছাকাছি সক্ষমতাসম্পন্ন কোনো প্রতিপক্ষের পূর্ণমাত্রার হামলায় এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে'।
প্রথমদিকে 'আয়রন ডোম ফর আমেরিকা' নামে পরিচিত এই প্রকল্প গঠনের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের অস্ত্রের হুমকি সময়ের সঙ্গে আরও 'তীব্র ও জটিল' হয়ে উঠেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য 'বিপর্যয়কর' পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রতিরক্ষা বিভাগকে এমন একটি ব্যবস্থার পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেন, যা আকাশপথের হামলা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। সে সময় হোয়াইট হাউস বলেছিল, এ ধরনের হামলাই এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা 'সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকি'।
ট্রাম্প বলেন, এই ব্যবস্থায় স্থল, সমুদ্র ও মহাকাশজুড়ে 'পরবর্তী প্রজন্মের' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক সেন্সর ও ইন্টারসেপ্টরও থাকবে।
গত বছর তিনি বলেছিলেন, এই ব্যবস্থা 'পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে কিংবা মহাকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করতে সক্ষম হবে'।
