মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকট চরমে, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কয়লার চাহিদা
মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় মার্চ ও এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে কয়লার সরবরাহ এবং আমদানিতে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে।
কয়লার এই বিপুল চাহিদা গত কয়েক সপ্তাহে আরও বেড়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজার বিশ্লেষক প্ল্যাটফর্ম কেপলার ধারণা করছে যে খুব দ্রুতই বিশ্বজুড়ে কয়লার এই আমদানি মাসের হিসেবে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে।
তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের একটি। এই সংকটের জের ধরেই বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করে জ্বালানি হিসেবে কয়লার এই আকাশছোঁয়া চাহিদা ফিরে এসেছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব দেশ ও অঞ্চল ধারণা করেছিল যে তাদের কয়লার ব্যবহার আর কখনোই বাড়বে না, তারাও এখন উল্টো দলে দলে কয়লা আমদানির দিকে ঝুঁকছে।
উদাহরণস্বরূপ বিশ্বের অন্যতম বড় জাহাজমালিকদের সংগঠন 'বিমকো' গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, আগের বছরের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে গত মাসে কয়লা সরবরাহ ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে আসায় বাধ্য হয়েই এখন এশিয়ার আমদানিকারক ও ইউরোপীয় ব্লকের দেশগুলোকে জ্বালানির জন্য কয়লার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে গ্যাসের চালান মূলত আটকে আছে হরমুজ প্রণালিতে।
অন্যদিকে, কাতার সম্পূর্ণভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কাতার গত ২ মার্চ তাদের সব ধরনের এলএনজির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পরই, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি কেন্দ্র রাস লাফানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিমকোর দেওয়া তথ্যানুসারে, 'হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে এলএনজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই ধাক্কা এতটাই মারাত্মক যে এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে এলএনজি পরিবহন আগের বছরের তুলনায় অন্তত ৮ শতাংশ কমে গেছে।'
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে তেল ও গ্যাসের বাজারের এই হঠাৎ চরম সংকটের পর দক্ষিণ কোরিয়া বেশ দ্রুত তাদের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আপাতত বন্ধ করার কথা ছিল, তার মেয়াদ তারা আরও বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে ইউরোপে জ্বালানির আরেক লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তারা এলএনজি সংগ্রহের এই দৌড়ে আপাতত এশিয়ার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছে। ইউরোপের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ সামনে শীতকাল আসছে আর এই সময়ের মধ্যেই তাদের আগামী শীতের গ্যাসের মজুত দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
উড ম্যাকেঞ্জি-এর বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন যে, এই অপ্রত্যাশিত সংকট বিশ্বের প্রধান দেশগুলোকে বাধ্য করছে তাদের নিজেদের শক্তি বা জ্বালানি সুরক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত পরিবর্তন আনতে। আর এই কারণেই তারা নতুন করে কয়লার ব্যবহার বাড়াচ্ছে এবং একই সাথে বন্ধ হতে যাওয়া অনেক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকেও সচল রাখার পথে হাঁটছে।
