মে মাসে জ্বালানি তেলের রপ্তানি বাড়াবে চীন: গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও
গত মার্চ মাসে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর, আগামী মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে পণ্যটি রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে চীন। তবে মে মাসের জন্য অনুমোদিত এই রপ্তানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ কম। রয়টার্সের সূত্রমতে, রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স আজ জানিয়েছে, বেইজিং মে মাসে ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। পণ্য পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভর্টেক্সা-র প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার টন। তবে কেপলার-এর তথ্য বলছে, গত বছরের গড় ১৬ লাখ টন রপ্তানির তুলনায় এই লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
গত মঙ্গলবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিনোপেক এবং সিএনপিসি-সহ বেশ কিছু কোম্পানি ইতিমধ্যেই রপ্তানি পারমিটের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানায়, মূলত ডিজেল ও গ্যাসোলিন রপ্তানির জন্যই এই আবেদনগুলো করা হয়েছে।
গত মার্চের শুরুতে চীন তার জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে নতুন কোনো রপ্তানি চুক্তি করতে নিষেধ করেছিল এবং বিদেশে পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা চালানগুলো বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ– হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায়—বিশ্ববাজারে জ্বালানির চরম সংকট তৈরি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতেই বেইজিং ওই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল।
এখন বেইজিং নিজেই এই জ্বালানি রপ্তানির গন্তব্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, লাওস, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ ও মিয়ানমার।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার এই প্রলম্বিত যুদ্ধের ফলে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জ্বালানি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গানভর-এর গবেষণা প্রধান ফ্রেডেরিক ল্যাসের সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বলেন, "আগামী তিন মাসের মধ্যে যদি সরবরাহ পথগুলো পুনরায় উন্মুক্ত না হয়, তবে এটি একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নেবে এবং বিশ্ব ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়বে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, তেমনটি ঘটলে বাজারে (তেলের) চাহিদাতেও বিশাল পরিবর্তন আসবে। অন্যদিকে ট্রাফিগুরা-র প্রধান অর্থনীতিবিদ সাদ রহিম মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক 'চরম সন্ধিক্ষণে' দাঁড়িয়ে আছে।
