Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Wednesday
October 21, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
WEDNESDAY, OCTOBER 21, 2026
এক দশকে কর্মসংস্থান ২৩৭% বাড়লেও নীতিমালার অভাবে ধুঁকছে সম্ভাবনাময় ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’

অর্থনীতি

মহসিন ভূঁইয়া
06 May, 2026, 08:35 am
Last modified: 06 May, 2026, 11:37 am

Related News

  • আইএমএফের শর্ত পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য
  • মূল্যস্ফীতি যখন সঞ্চয়ে টান দিচ্ছে, তখন আমানতে সুদের হার কমাচ্ছে শীর্ষ ব্যাংকগুলো
  • দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ স্থবিরতায় দেশের ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ 'ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্তের' কাতারে
  • তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
  • ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

এক দশকে কর্মসংস্থান ২৩৭% বাড়লেও নীতিমালার অভাবে ধুঁকছে সম্ভাবনাময় ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’

মহসিন ভূঁইয়া
06 May, 2026, 08:35 am
Last modified: 06 May, 2026, 11:37 am
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বা 'অরেঞ্জ ইকোনমি' সার্বিক অর্থনীতির গতির চেয়েও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি এখনো প্রায় অদৃশ্য। নতুন তথ্যে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে এই খাত জিডিপিতে ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি অবদান রেখেছে। তবে একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসছে: দ্রুত বর্ধনশীল এই অর্থনৈতিক খাতটিকে কেন এখনো কেবল 'সংস্কৃতি' হিসেবে দেখা হচ্ছে, 'বাণিজ্য' হিসেবে নয়?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী, শিল্প, বিনোদন ও অবকাশ যাপন খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ সালের ৩৩,৪৪১ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১,১২,৮২৯ জনে দাঁড়িয়েছে—যা এক দশকে ২৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি। কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি সহায়তা ছাড়াই এই প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, বাজার চাহিদা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্স ইকোসিস্টেমের ওপর ভর করেই এই খাতটি এগিয়ে যাচ্ছে।

ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস

দ্রুত প্রবৃদ্ধি, কিন্তু হিস্যা ছোট

২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্র এই ইতিবাচক ধারাই সমর্থন করে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান ছিল ৯,১৯৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫.৪ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির হার জাতীয় গড় নামিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের (১০.২%) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আর তুলনামূলকভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি এখন কৃষি (১২.৮%), শিল্প (১০%) এবং সেবা (১১.৮%) খাতের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে বলে বিবিএসের তথ্যে দেখাচ্ছে।

অবশ্য ৫৫ লাখ কোটি টাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ভাগ মাত্র ০.১৭ শতাংশ, যা প্রথাগত খাতগুলোর তুলনায় নগণ্য। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং নীতিগত স্বীকৃতির অভাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মূল্যবোধের একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। কয়েক দশক ধরে নীতিমালায় পোশাক খাত, রেমিট্যান্স ও কৃষিকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও সৃজনশীলতাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে।

দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিমালায় মূলত উৎপাদনমুখী শিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং), প্রবাসী আয় এবং কৃষিখাতই প্রাধান্য পেয়ে আসছে; যার ফলে সৃজনশীলতাকে বরাবরই প্রথাগত উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছে। তবে এই খাতে দ্রুত বর্ধনশীল জনবল এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন এখন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে—সৃজনশীল অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ কি না, সেই বিতর্কের অবকাশ আর নেই। বরং এখন বড় প্রশ্ন হলো, এত সম্ভাবনাময় একটি খাত কেন এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিগত কাঠামো বা 'পলিসি অ্যাঙ্কর' ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন বলেন, বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প এখনো মূলত অনানুষ্ঠানিক। কাগজ-কলমে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক মনে হলেও—এখাতের পেশাজীবীরা বেশিরভাগ সময়েই টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বলয়, পেনশন বা পেশাদারি সুরক্ষার বন্দোবস্ত নেই। তার মতে, বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিকে চরম পেশাগত অনিশ্চয়তা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, "যেমন আমাদের সংগীতশিল্পীদের মধ্যে সম্ভবত মাত্র ৫ শতাংশ তাদের এই সৃজনশীল কাজকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সামর্থ্য রাখেন। বাকিদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আর্থিক নিশ্চয়তা বা টেকসই আয়ের অভাবে— এটি স্রেফ একটি 'দ্বিতীয় পেশা' হিসেবে টিকে রয়েছে। আমরা এখানে একটি 'মৌসুমি' আয়ের চক্রও লক্ষ্য করছি, যেখানে চরম প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও— শেষ পর্যন্ত স্রেফ স্থিতিশীলতার খোঁজে মাইগ্রেট করছেন অথবা এই শিল্প পুরোপুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।"

সৃজনশীল খাতের বিদ্যমান এসব ঘাটতি পূরণের বিষয়ে অধ্যাপক সাকিব বলেন, "এই খাতের আমূল পরিবর্তনের জন্য সরকারকে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে একে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। একইসাথে শিল্পী ও সৃজনশীল কর্মীদের জাতীয় পেনশন এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই এর উন্নয়নকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া তথা বিকেন্দ্রীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের মেধাবী শিল্পী এবং নারী সৃজনশীল কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা তাদের সৃজনশীল দক্ষতাকে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তর করতে পারেন।

'অরেঞ্জ ইকোনমি' কী?

২০১৩ সালে ফিলিপ বুইট্রাগো এবং ইভান ডুকের লেখা 'দ্য অরেঞ্জ ইকোনমি: অ্যান ইনফিনিট অপরচুনিটি' বইটিতে প্রথমবারের মতো এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি শিল্পকলা, কারুশিল্প, চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে ফ্যাশন, সংগীত, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভিডিও গেমের মতো সৃজনশীল শিল্পের এক বিশাল পরিসরকে ধারণ করে। বিশ্বজুড়ে এই সৃজনশীলতা কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খাতের রূপান্তর এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। শিল্পী, ডিজাইনার, ফ্রিল্যান্সার, ক্রীড়াবিদ ও গল্পকারদের এখনো মূলত সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবেই দেখা হয়, অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে নয়। ফলে দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতটি দেশের মূল নীতিগত কাঠামোর বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

গত কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানকার পরিবারগুলো একটি চিরচেনা ছক অনুসরণ করে আসছে: শিক্ষা, তারপর একটি প্রথাগত পেশা এবং পরিশেষে আর্থিক স্থিতিশীলতা। এই পথনকশায় সৃজনশীলতা খুব কমই স্থান পেয়েছে—প্রতিভার অভাবে নয়, বরং অর্থনৈতিক নীতিমালায় একে একটি টেকসই পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রণোদনা না থাকায়।

তবে বৈশ্বিক তথ্য-প্রমাণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) 'ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আউটলুক ২০২৪' শীর্ষক প্রতিবেদনে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রসারে সৃজনশীল শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। বিভিন্ন দেশে এই খাতটি জিডিপিতে ০.৫ শতাংশ থেকে ৭.৩ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখছে এবং মোট কর্মসংস্থানের ০.৫ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত দখল করে আছে—যা এর প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনাকেই ফুটিয়ে তোলে।

প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আঙ্কটাডের মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেন, "সৃজনশীল অর্থনীতির পালে এখন অনুকূল হাওয়া বইছে। এটি কেবল শিল্পকলা নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস যা আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজে লাগাতে হবে, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।"

নিম্ন সরকারি বিনিয়োগ

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী বাজেট পর্যালোচনায় একটি অত্যন্ত ধারাবাহিক ও হতাশাজনক চিত্র ফুটে ওঠে। অরেঞ্জ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির কেন্দ্রে থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়—বিগত ১৫ বছর ধরে মোট উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ পেয়ে আসছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এই তিন মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৯৮২ কোটি টাকা; যা ২,৪৫,৬০৯ কোটি টাকার মোট উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ০.৮১ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে এই বরাদ্দের হার ছিল ০.৬১ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে এই খাতে বরাদ্দের হার বেড়েছে মাত্র ২০ বেসিস পয়েন্ট। অথচ একই সময়ে দেশে সৃজনশীল জনশক্তি বেড়ে তিন গুণ হয়েছে।

একই সময়ে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষাখাত বরাবরই শীর্ষস্থানগুলোর একটিতে অবস্থান করছে—যা বর্তমানে জনপ্রশাসন এবং ঋণের সুদ পরিশোধের পরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু শিক্ষাখাতের এই বিশাল বিনিয়োগের সাথে সৃজনশীল অর্থনীতির কোনো কার্যকর সংযোগ বা সমন্বয় গড়ে ওঠেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অরেঞ্জ ইকোনমিকে যদি অর্থপূর্ণভাবে এগিয়ে নিতে হয়, তবে তার যোগান কেবল বিনোদন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এলে চলবে না; এর সূচনা হতে হবে সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে। সমস্যাটি বেশি অর্থ ব্যয় করা নয়, বরং অর্থ ব্যয়ের ধরণ পরিবর্তন করা নিয়ে। অর্থাৎ সৃজনশীলতা, কারিগরি দক্ষতা এবং 'কন্টেন্ট প্রোডাকশন'-এর সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক সমন্বয় ঘটানোই এখন সময়ের দাবি। আর সেখান থেকেই প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা হওয়া সম্ভব।

আঞ্চলিক তুলনা ও নীতিগত শূন্যতা

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে সৃজনশীল খাতের প্রতি বাংলাদেশের এই উদাসীন মনোভাবের পক্ষে সাফাই দেওয়া সম্ভব না। প্রতিবেশী দেশ ভারত বর্তমানে তাদের সৃজনশীল বা 'অরেঞ্জ ইকোনমি'কে শক্তিশালী করছে এবং নিজেদের 'কন্টেন্ট ক্রিয়েশন'-এর বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। এ লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে ইতোমধ্যেই বহুবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারত দেশব্যাপী ১৫,০০০ মাধ্যমিক স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে 'এভিজিসি' (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস) কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাবগুলোর পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য মুম্বাইয়ের 'ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস'-কে প্রধান সংস্থা বা 'নোডাল এজেন্সি' হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

ভারতের এই ঘোষণা কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ করে আসেনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে গঠিত ভারতের 'এভিজিসি প্রমোশন টাস্কফোর্স' একটি ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়নে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় ব্যয় করেছে।

মূলত প্রতিটি অর্থনীতিই নিজে বেছে নেয় যে তারা কোন খাতটির বিকাশ ঘটাবে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতকে বেছে নিয়েছিল, যা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতির দেশে–আজও সেই একটি একক খাত দেশের অর্থনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে, সৃজনশীল অর্থনীতি—যা একটি প্রমাণিত প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পন্ন খাত—এখনো একটি জোরালো নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা আজও আসেনি।

প্রবৃদ্ধির পরবর্তী চালিকাশক্তি বা 'ইঞ্জিন' খোঁজার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মডেলের জন্য খুব দূরে তাকাতে হবে না। একটি নিবেদিত টাস্কফোর্স এবং একটি জাতীয় 'অরেঞ্জ' বা সৃজনশীল অর্থনীতি কৌশল প্রণয়ন করা গেলে তা দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রাতিষ্ঠানিক মোড় হতে পারে।

৫ লাখ কর্মসংস্থান ও জিডিপির ১.৫ শতাংশ: পরিকল্পনার অপেক্ষায় থাকা একটি প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সাথে যুক্ত করার প্রাথমিক আভাসগুলো দিতে শুরু করেছে, যা দেশের সৃজনশীল খাতের জন্য এক নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।

সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রকল্প চালু করেছে। গত ২ মে দেশব্যাপী 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' নামক একটি তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া উদ্যোগ চালু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান অ্যাথলেটদের খুঁজে বের করা।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সৃজনশীল অর্থনীতি বা 'অরেঞ্জ ইকোনমি'র উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: সৃজনশীল খাতের অবদান জিডিপির ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা, ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক 'ক্রিয়েটিভ হাব' বা সৃজনশীল কেন্দ্র স্থাপন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ তহবিল গঠন।

আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ক্রীড়া, জাতীয় সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এতে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটও একটি সম্ভাবনাময় সময়ের আশা দেখাচ্ছে। এই প্রথম পরিসংখ্যান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং এই খাতের নিজস্ব গতিধারা—সবগুলোই একই দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক খবর হলো, গত ২৫ এপ্রিল 'ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম'-এর নেতাদের সাথে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, আসন্ন বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার গ্রামীণ কুটির শিল্প, কারুশিল্প এবং সৃজনশীল শিল্পগুলোকে মূলধারার অর্থনীতির অংশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা এবং সংগীত খাতকে এখন থেকে অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা এতদিন পর্যন্ত নীতিগতভাবে অবহেলিত ছিল।

Related Topics

টপ নিউজ

অরেঞ্জ ইকোনমি / সৃজনশীল অর্থনীতি / বাংলাদেশ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
    আগামী বছর থেকে আমেরিকার ‘প্রতিটি শিশুকে’ স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা মাস্কের
  • ছবি: টিবিএস
    নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত অন্তত ৩০
  • ছবি: টিবিএস
    গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের কারখানায় ফের ছাঁটাই: এবার চাকরি হারালেন ৭৩৯ জন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ১৯ বছরের পুরনো শ্রমিকেরা
  • ইলাস্ট্রেশন: ছৈয়দ মওলা/টিবিএদ
    আইএমএফের শর্ত পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য
  • ছবি: সংগৃহীত
    রিজার্ভ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ইইউ-র নতুন বর্জ্য নীতিমালার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের স্ক্র্যাপ ইস্পাত আমদানি
    ইইউ-র নতুন বর্জ্য নীতিমালার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের স্ক্র্যাপ ইস্পাত আমদানি

Related News

  • আইএমএফের শর্ত পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য
  • মূল্যস্ফীতি যখন সঞ্চয়ে টান দিচ্ছে, তখন আমানতে সুদের হার কমাচ্ছে শীর্ষ ব্যাংকগুলো
  • দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ স্থবিরতায় দেশের ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ 'ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্তের' কাতারে
  • তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
  • ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

Most Read

1
ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

আগামী বছর থেকে আমেরিকার ‘প্রতিটি শিশুকে’ স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা মাস্কের

2
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত অন্তত ৩০

3
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের কারখানায় ফের ছাঁটাই: এবার চাকরি হারালেন ৭৩৯ জন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ১৯ বছরের পুরনো শ্রমিকেরা

4
ইলাস্ট্রেশন: ছৈয়দ মওলা/টিবিএদ
অর্থনীতি

আইএমএফের শর্ত পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য

5
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

রিজার্ভ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

6
ইইউ-র নতুন বর্জ্য নীতিমালার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের স্ক্র্যাপ ইস্পাত আমদানি
অর্থনীতি

ইইউ-র নতুন বর্জ্য নীতিমালার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের স্ক্র্যাপ ইস্পাত আমদানি

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net