ফায়ারিং স্কোয়াড, বিষাক্ত ইনজেকশন ও গ্যাস প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড প্রথা পুনরায় চালুর অংশ হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াড, বিষাক্ত ইনজেকশন ও প্রাণঘাতী গ্যাস প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শুক্রবার এই তথ্য জানায় তারা।
হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনই ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনামলে ফেডারেল কারাগারগুলোতে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক বি গারল্যান্ড ফেডারেল বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। একই সঙ্গে 'পেন্টোবারবিটাল' নামের প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আর সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে ফেডারেল কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪০ জন আসামির মধ্যে ৩৭ জনেরই সাজা কমিয়ে দিয়েছিলেন।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, 'বাইডেন আমলের এই সিদ্ধান্তগুলো অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। সর্বোপরি এটি আইনের শাসনেরই চরম অবমাননা।'
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, ফেডারেল বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পেন্টোবারবিটাল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বিচার বিভাগ। এর পাশাপাশি ফায়ারিং স্কোয়াডসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিষাক্ত ইনজেকশনের ওষুধের প্রাপ্যতা ও বৈধতা নিয়ে বিতর্কের কারণে যেসব রাজ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, কেন্দ্রীয় কারা ব্যুরোর (বিওপি) উচিত তাদের অনুসরণ করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিওপি-কে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অতিরিক্ত উপায় হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াড, বিদ্যুতায়িত করে হত্যা এবং প্রাণঘাতী গ্যাস ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এর প্রতিটি পদ্ধতিকেই সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বিল অব রাইটসের এই সংশোধনীতে 'নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তির' ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, রাজ্য পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফেডারেল আপিল প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে তারা একটি নতুন নিয়ম তৈরির কাজ করছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার এই সময়সীমা কতটুকু কমানো হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল আদালতেরই রয়েছে।
দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমা বা সাজা মওকুফের আবেদনের বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে তারা।
