ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আজ রাত থেকে ১০ দিনের একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরু হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৪টা) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, 'আমি লেবাননের অত্যন্ত সম্মানিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে এই দুই নেতা ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছেন।'
ট্রাম্প জানান, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিজের সফলতার দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, 'বিশ্বজুড়ে ৯টি যুদ্ধের অবসান ঘটানো আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল, আর এটি হতে যাচ্ছে আমার ১০ম সাফল্য। তাই চলুন, কাজটি সম্পন্ন করি!'
মার্কিন নৌ অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে ৩১টি জাহাজ
গত সোমবার থেকে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে, এই তথ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবির ঠিক বিপরীত।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে ১৪টি তেল, গ্যাস ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার, ১৩টি কার্গো ও কন্টেইনার জাহাজ এবং ৪টি বাল্ক কার্গো জাহাজ এই কৌশলগত জলপথটি পার হয়েছে।
অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে ১৪টি আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। এছাড়া ৭টি জাহাজ সরাসরি ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে আসার পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
মালিকানার ভিত্তিতে দেখা গেছে, এসব জাহাজের মধ্যে ৭টি চীনভিত্তিক, ৬টি ইরানভিত্তিক এবং ৪টি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত।
এই পরিসংখ্যান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। গত বুধবার মার্কিন বাহিনী দাবি করেছিল যে, অবরোধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার হতে পারেনি।
এদিকে, সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা 'ট্যাঙ্কারট্র্যাকারস'-এর পৃথক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন অবরোধ চলাকালীনই ইরান প্রায় ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে চীন: হেগসেথ
চীন ইরানকে অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করছে—এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা এমনটি করবে না।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, 'ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত শক্তিশালী ও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। চীন আমাদের নিশ্চিত করেছে যে, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি ঘটছে না।'
এর আগে গত সপ্তাহে সিএনএন তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন এই খবর প্রকাশ করেছিল।
তবে গত বুধবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করেছেন। ট্রাম্প বলেন, 'আমি শুনেছি যে চীন ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে এবং সর্বত্রই এই আলোচনা চলছে। তাই আমি প্রেসিডেন্ট শি-কে একটি চিঠি লিখেছিলাম এবং তাকে এটি না করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। জবাবে তিনি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছেন যে, তারা মূলত এমন কিছু করছেন না।'
নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলবেন না লেবাননের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই নেতার মধ্যে ঐতিহাসিক আলোচনার ঘোষণা দিলেও, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। লেবাননের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওই কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা এই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নই।"
লেবাননের কর্মকর্তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো আলোচনা করবেন না। অন্যদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসেছে।
ইরানি জলসীমায় সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর
ইরানকে সহায়তা করছে এমন যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইরানের এখন আর কার্যকর কোনো নৌবাহিনী না থাকায় হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচল এখন মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন বাহিনী পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। ইরান তাদের কোন কোন সামরিক সরঞ্জাম কোথায় সরিয়ে নিচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র জানে উল্লেখ করে তিনি সরাসরি সতর্কবার্তা দেন— 'আমরা তোমাদের ওপর নজর রাখছি।'
সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ বলেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে 'অন্যান্য দেশগুলো এগিয়ে আসলে এবং সহায়তা করলে' যুক্তরাষ্ট্র তাকে স্বাগত জানাবে।
হেগসেথের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ইরানকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে এমন যেকোনো জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র ধাওয়া করবে। এর মধ্যে ইরানি তেল বহনকারী 'ডার্ক ফ্লিট' বা গোপন জাহাজগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই অবরোধ কেবল আন্তর্জাতিক জলসীমায় নয়, বরং ইরানের নিজস্ব জলসীমাতেও কার্যকর করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অবরোধের বিষয়ে আরও জানানো হয়, ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সকল জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। যদি কোনো জাহাজ এই অবরোধ অমান্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
এখন পর্যন্ত ১৩টি জাহাজ অবরোধের মুখে ফিরে গেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো পর্যন্ত কোনো জাহাজে সরাসরি আরোহণ করেনি।
ইউরোপে মাত্র ৬ সপ্তাহের জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে: আইইএ প্রধান
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন যে, ইউরোপের হাতে আর মাত্র ছয় সপ্তাহের মতো জেট ফুয়েল [বিমানের জ্বালানি] অবশিষ্ট আছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে শীঘ্রই অনেক ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
বিরল বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার প্রভাব সারা বিশ্বে অনুভূত হবে।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি এখন সত্যিই সংকটাপন্ন। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়বে। এই অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জন্য তা তত বেশি ক্ষতিকর হবে।'
তিনি আরও জানান, এই সংকটের সরাসরি প্রভাব হিসেবে পেট্রোল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।
যাকে পছন্দ নয়, তার সঙ্গে আগে 'সংলাপ' করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো নির্দিষ্ট সরকারকে 'পছন্দ করে না', তখন তাদের উচিত শুরুতেই 'সংলাপে বসা'।
ল্যাভরভ বলেন, "কোনো দেশই কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আগে চুক্তি সম্পাদন করে এবং পরবর্তীতে তা থেকে একতরফাভাবে সরে যায়।"
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিই আলোচনার 'মূল পথ': লেবাননের প্রেসিডেন্ট
লেবানন ইসরায়েলের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে, সেটি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি 'স্বাভাবিক প্রবেশপথ' হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন। ব্রিটিশ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে আউন বলেন, 'লেবানন দক্ষিণ সীমান্তসহ দেশের সব অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে আগ্রহী। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং লেবাননের গ্রাম ও শহরগুলোতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া রুখে দেওয়া।'
লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট আউন স্পষ্ট করে বলেন যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার আলোচনা কেবল লেবানন কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধবিরতিকে সুসংহত করতে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। এছাড়া সীমান্তে যেকোনো ধরনের সশস্ত্র উপস্থিতির অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সীমানা পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ইসরায়েল-লেবানন সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'বড় পরিবর্তন' আনবে: এহুদ ওলমার্ট
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বলেছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে লেবাননের প্রতিশ্রুতি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড়' হয়ে দাঁড়াবে।
বিবিসি'র 'নিউজডে' অনুষ্ঠানে ওলমার্ট বলেন, 'আমার সন্দেহ আছে যে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ইসরায়েলের কোনো সরকার রাজি হবে কি না।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি ইউরোপ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি লেবাননও হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আন্তরিক হয় এবং এ লক্ষ্যে কার্যকরভাবে সহযোগিতা করে, তবে তা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। কিন্তু আমার মনে হয়, পরিস্থিতি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।'
তবে, ওলমার্ট জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠকের পর ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের বিষয়ে তার জানা নেই।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর ২৪০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা ড্রোন নিখোঁজ
নিজেদের অন্যতম দামি ও আধুনিক একটি ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ৯ এপ্রিল 'এমকিউ-৪সি ট্রাইটন' মডেলের এ ড্রোন পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয় বলে গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর সেফটি কমান্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইট রাডার ২৪'-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর পারস্য উপসাগরের ওপর নিখোঁজ হয়। এটি হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ার সময় হঠাৎ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত ৯ হাজার ফুটে নেমে আসে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ফ্লাইট ডাটায় দেখা যায়, ওড়ার সময় ড্রোনটি '৭৪০০' সংকেত পাঠাচ্ছিল, যার অর্থ ড্রোনটির সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল বা চালকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর প্রায় ৭০ মিনিট পর এটি '৭৭০০' সংকেত পাঠায়, যা জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। সবশেষে ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
মার্কিন নৌবাহিনী ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
আজ লেবাননের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলবেন নেতানিয়াহু, দাবি ইসরায়েলি মন্ত্রীর
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আজ লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সাথে কথা বলবেন। ইসরায়েলি মন্ত্রিপরিষদের নিরাপত্তা সদস্য গালিয়া গামলিয়েল ইসরায়েল আর্মি রেডিওতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন সময় বুধবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা 'আগামীকাল' কথা বলবেন। মূলত ট্রাম্পের সেই বার্তার পর এই ঘোষণাটি এল।
এর আগে বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলের সাথে এ ধরণের কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তারা অবগত নন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ: ১০ জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজ ইরানে প্রবেশ করতে বা সেখান থেকে বের হতে পারেনি বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের উপকূল অভিমুখে যাতায়াতকারী বা সেখান থেকে আসা সব নৌযানকে আটকে দিচ্ছে অথবা ফিরিয়ে দিচ্ছে। তবে ইরানের বাইরে অন্য কোনো গন্তব্যে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
গত রাতে দেওয়া এক হালনাগাদ তথ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, 'সোমবার অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি জাহাজও এটি অতিক্রম করতে পারেনি।'
ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, এই অবরোধের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানের দাবি করা 'টোল' বা মাশুল ব্যবস্থা বন্ধ করা যাবে এবং দেশটির তেল রপ্তানি কমিয়ে দিয়ে তেহরানের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ইরান এই নৌ-অবরোধকে 'জলদস্যুতা' হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এর জবাবে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে। মূলত এই নৌ-অবরোধকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শীঘ্রই প্রত্যাশিত, লেবাননে শান্তি অপরিহার্য: পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শীঘ্রই পুনরায় আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক, তবে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার স্থান বা তারিখ সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে, বর্তমানে কার্যকর থাকা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তান বলেছে, 'শান্তি আলোচনার জন্য লেবাননে শান্তি বজায় থাকা অপরিহার্য।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
৩৪ বছর পর আজ সরাসরি আলোচনায় বসবেন ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা: ট্রাম্প
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের দূতেরা সরাসরি বৈঠক করেছিলেন। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবার শীর্ষ পর্যায়ে এই যোগাযোগের খবর এল।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছি। অনেক দিন পর—প্রায় ৩৪ বছর পর দুই নেতা কথা বলবেন। কালই (বৃহস্পতিবার) এটি হতে যাচ্ছে। দারুণ!' তবে এই আলোচনায় কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানাননি।
গত ২ মার্চ লেবানন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে নতুন করে হামলা শুরু করলে এই সংঘাতের বিস্তার ঘটে। হিজবুল্লাহর দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তারা এই হামলা চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আভাসে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বগতি
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সাথে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস 'আশাবাদ' ব্যক্ত করার পর বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪৪ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৭০ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ কমে হয়েছে ৯০.৫৯ ডলার।
এর আগে আল জাজিরাকে দেওয়া এক তথ্যে পাকিস্তানি সূত্র জানায়, দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতভেদ দূর করার ক্ষেত্রে বড় ধরণের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বর্তমানে তেহরান সফরে রয়েছেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুনরায় আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছেন।
জ্বালানির দাম কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশীয় শেয়ারবাজারগুলোতেও। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ১.৮৯ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ০.৬৮ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তাইেক্স সূচক ০.৪৮ শতাংশ বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই একমত হতে হবে: ইরানের স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে 'অবশ্যই মেনে নিতে হবে'।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননে একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি' সফল হওয়া মূলত সেখানে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর 'অকুতোভয় সংগ্রামের' ওপর নির্ভর করবে।
গালিবফ উল্লেখ করেন, ইরান এবং এই অঞ্চলের ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে গঠিত 'প্রতিরোধের অক্ষ'—যার মধ্যে হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা রয়েছে—যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি উভয় ক্ষেত্রেই 'এক ও অভিন্ন'।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের 'ইসরায়েল সবার আগে' রাখার যে ভুল নীতি, তা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরানের বন্দরগুলোতে 'অনির্দিষ্টকাল' নৌ-অবরোধ চালিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: হোয়াইট হাউস
হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে 'অনির্দিষ্টকাল' নৌ-অবরোধ জারি রাখতে পারে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধরতে দেশটির বন্দরগুলোতে এই নৌ-অবরোধ আরোপ করেন।
সাক্ষাৎকারে মিলার ট্রাম্পকে একজন 'শান্তিকামী মানুষ' হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'আমেরিকা কাউকে ভয় পায় না এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানের হুমকি তারা কখনো সহ্য করবে না—এখনো নয়, ভবিষ্যতেও নয়।'
মিলার সতর্ক করে বলেন, 'একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আগামী কয়েক প্রজন্মের জন্য ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। তবে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে তিনি তা করতে চান না। তিনি চান ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সঠিক পথটি বেছে নিক।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'এই অবরোধ ইরানি শাসনব্যবস্থার অর্থনৈতিক জীবনীশক্তিকে পিষে ফেলছে। ইরান যদি ভুল পথে চলা অব্যাহত রাখে, তবে এই অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তাগিদ
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ফোন করে হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, বুধবারের ওই ফোনালাপে ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তা রক্ষা করা প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি সেখানে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গ্যারান্টিযুক্ত করতে হবে।
ওয়াং আরও উল্লেখ করেন, এই জলপথ দিয়ে আবারও স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন এবং সম্পর্কের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চীন সব সময় প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইসলামাবাদে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী আলোচনা: হোয়াইট হাউস
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার (১৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
লেভিট বলেন, 'খুব সম্ভবত পরবর্তী আলোচনার স্থান গতবারের মতোই ইসলামাবাদে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই আলোচনা সফল করতে তাদের বন্ধুত্ব ও প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।'
তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানই একমাত্র মধ্যস্থতাকারী দেশ। বিশ্বের অনেক দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, পাকিস্তানের মাধ্যমেই এই যোগাযোগ প্রক্রিয়া বজায় রাখা সবথেকে কার্যকর।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা কিছু খবর নাকচ করে দিয়ে লেভিট বলেন, 'আজ সকালে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। এই তথ্যটি সঠিক নয়। আমরা বর্তমানে আলোচনার ওপরই পুরোপুরি মনোনিবেশ করছি।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনও সক্রিয় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়েই এই আলোচনাকে 'ফলপ্রসূ এবং চলমান' বলে অভিহিত করেছেন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
হামলার ঝুঁকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে পারে ইরান
নতুন করে সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ইরান। চুক্তিটি হলে হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে কোনো রকম হামলার ঝুঁকি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে পারে তারা। তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানিয়েছে, সংকীর্ণ এই প্রণালির অন্য পাশ, অর্থাৎ ওমানের জলসীমা দিয়ে জাহাজ চলাচলে তেহরান কোনো বাধা নাও দিতে পারে।
তবে ইরান ওই জলসীমায় কোনো মাইন পুঁতে থাকলে তা সরাবে কি না, সংশ্লিষ্ট সূত্র তা পরিষ্কার করেনি। এছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজগুলোসহ সব নৌযান সেখানে অবাধে চলতে পারবে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।
ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়েছে কয়েক শ জাহাজ। এসব জাহাজে অন্তত ২০ হাজার নাবিক রয়েছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
