‘ইরাক যুদ্ধ থেকে আমরা কি কিছুই শিখিনি?’—ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ’ যুদ্ধের নিন্দা গ্রিনপিসের
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া 'অবৈধ যুদ্ধের' তীব্র সমালোচনা করে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস বলেছে, ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মানবিক ও পরিবেশগত সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে: 'ইরাক যুদ্ধ থেকে আমরা কি কিছুই শিখিনি?' ওই যুদ্ধে বেসামরিক প্রাণহানি, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক অস্থিরতা ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির উদাহরণও টেনেছে তারা।
সংস্থাটি বলেছে, 'কর্তৃত্ববাদী নেতারা ক্রমাগত মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে চলেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবৈধ যুদ্ধ এই অঞ্চলের চলমান বিশৃঙ্খলা ও জরুরি অবস্থাকে কেবল আরও উসকে দিচ্ছে। গাজায় চলমান গণহত্যা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে: আমরা আর কতদিন এসব সহ্য করব?'
গ্রিনপিসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আত্মকেন্দ্রিক নেতারা যখন নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ এবং নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তখন আমরা কোনোভাবেই চুপ থাকতে পারি না। আমাদের অবশ্যই স্বৈরাচারী যুদ্ধবাজ মানসিকতার অবসান ঘটাতে হবে।'
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার যোগসূত্র তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে এবং স্বৈরাচারী সরকারগুলোকে শক্তিশালী করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'অন্য এক পৃথিবী গড়া সম্ভব: যেখানে চালিকাশক্তি হবে শান্তি, ন্যায়বিচার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি; তেল, গ্যাস বা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর সংঘাত নয়। জীবাশ্ম জ্বালানির যুগের অবসান ঘটানোর অর্থ হলো সেই ব্যবস্থাগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া যা একনায়ক ও যুদ্ধবাজদের সমৃদ্ধ করে। এর মাধ্যমে এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব যেখানে মুনাফার চেয়ে মানুষের জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।'
