লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হুমকিতে ফেলা ইরানের ‘বোকামি’ হবে: জেডি ভ্যান্স
লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি হুমকিতে ফেলা ইরানের জন্য 'বোকামি' হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান স্পষ্টভাবে বলেছিল, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত; তবে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল সেখানে হামলা বন্ধ করবে—এমন কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়নি।
বুধবার ভ্যান্স বলেন, 'ইরান যদি লেবাননের জন্য এই আলোচনা ভেস্তে দিতে চায়—এমন এক সংঘাত যেখানে তারা নিজেরাই বিধ্বস্ত হচ্ছিল—তবে সেটি একান্তই তাদের সিদ্ধান্ত। লেবাননের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বলেনি এটি যুদ্ধবিরতির অংশ। আমরা মনে করি এটি করা তাদের জন্য বোকামি হবে, তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই।'
এর আগে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া যুদ্ধবিরতির বিবৃতিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন এবং লেবানন সংক্রান্ত অংশটি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। আরাগচি লেখেন, 'ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রকে হয় যুদ্ধবিরতি নতুবা ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। একসাথে দুটি চলতে পারে না।'
তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস দাবি করছে, লেবানন এই চুক্তির অংশ ছিল না। জেডি ভ্যান্স এই স্ববিরোধী অবস্থানকে একটি 'ভুল বোঝাবুঝি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এখানে অনেক অসৎ আলোচনা ও অপপ্রচার চলছে। আমার মনে হয় এটি একটি বড় ভুল বোঝাবুঝি। ইরানিরা হয়তো ভেবেছিল যে লেবাননও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল না।'
তবে এমন উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক আলোচনায় এ ধরনের 'ভুল বোঝাবুঝি' কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে কেন লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দেখানো হলো, মার্কিন কর্মকর্তারা সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত বুধবারও দেশটি লেবাননে এক ভয়াবহ হামলা চালায়। সেখানে কয়েক ডজন বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১,১০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবুও ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েল লেবাননে কিছুটা সংযম দেখাতে রাজি হয়েছে যাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সফল হয়।
এদিকে লেবাননের ভেতরে হিজবুল্লাহর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইরানের সমর্থনে দেশটিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য তাদের অভিযুক্ত করছে বিরোধীরা। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা হিজবুল্লাহর পাশ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার হুমকি দিয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি না মানলে তারা পুনরায় লড়াই শুরু করবে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, 'প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব এবং এই অঞ্চলের হামলাকারীদের এক অনুশোচনা জাগানিয়া জবাব দেব।'
