হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা
ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'আরটি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কথা জানান।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। গত এক মাসের যুদ্ধের কারণে এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে আছে। এই অচলাবস্থা অনেক দেশের ওপরই চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে—যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরেও। দেশটিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, 'হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় আর কখনোই ফিরে যাবে না।'
বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল 'কার্যকর' রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এখন থেকে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি পক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জাহাজটি যে দেশের পতাকাবাহী, সেই দেশের সরকারকে অবশ্যই তেহরানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, 'এখন পর্যন্ত শত্রু বা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।' এ কথার মাধ্যমে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগীদের ইঙ্গিত করেছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তারা এই প্রণালিতে একটি 'নিরাপদ রুট' তৈরি করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন অংশে মার্কিন আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করলে, পণ্য ও সামগ্রী পরিবহনের জন্য এই করিডোরটিই এখন একমাত্র কার্যকর পথ।'
তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি পক্ষ এবং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালানো 'অপপ্রচার' উপেক্ষা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।'
এদিকে, বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উচিত হবে সাহস করে তা দখল করে নেওয়া। বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই জলপথটি "স্বাভাবিকভাবেই খুলে যেতে পারে।'
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের পার্লামেন্টে একটি 'নতুন নীতিমালা' অনুমোদিত হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে ইরান ফি আদায় করবে।
শিপিং বিষয়ক ম্যাগাজিন 'লয়েডস লিস্ট' জানিয়েছে, ইতোমধ্যে একটি জাহাজ যাতায়াতের জন্য ২০ লাখ ডলার ফি পরিশোধ করেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক হলে ইরান বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হবে।
