হরমুজ প্রণালি বন্ধে রপ্তানি সংকট, মার্চে ওপেক জোটের তেল উৎপাদনে ব্যাপক পতন
গেল মার্চ মাসে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস-এর তেল উৎপাদন নেমে এসেছে কোভিড-১৯ মহামারির চূড়ান্ত পর্যায়, অর্থাৎ ২০২০ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন স্তরে। এমন চিত্রই উঠে এসেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি কমাতে বাধ্য হয়েছে ওপেক সদস্য দেশগুলো।
ওপেক ও রাশিয়াসহ তাদের মিত্র জ্বালানি উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ—যারা সম্মিলিতভাবে ওপেক প্লাস নামে পরিচিত—২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের উৎপাদন স্থিতিশীল রাখার এবং এপ্রিল থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। উৎপাদন বাড়ানোয় যুক্ত আট সদস্য দেশের বৈঠক ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এনার্জি এসপেক্টস-এর বিশ্লেষকেরা ১৬ মার্চের এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে এ মাসে ওপেকের তেল উৎপাদন দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল কমে ২ কোটি ২২ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, ইরাকেই উৎপাদন সবচেয়ে বেশি কমেছে—ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দৈনিক সাড়ে ৪১ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ছিল, মার্চে তা নেমে এসেছে ১৪ লাখ ব্যারেলে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক কম উৎপাদন কমিয়েছে, কারণ তাদের কাছে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রপ্তানি পথ রয়েছে।
গেল মাসে ওপেক প্লাস জোটের মধ্যে কেবল ভেনিজুয়েলা ও নাইজেরিয়া উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
রয়টার্স জরিপ অনুযায়ী, মার্চের এই উৎপাদন পুরো জোটের জন্য ২০২০ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন, যখন মহামারিজনিত চাহিদা পতনের কারণে ওপেক প্লাস রেকর্ড ৯৭ লাখ ব্যারেল দৈনিক উৎপাদন কমিয়েছিল। তখন উৎপাদন নেমে গিয়েছিল একই ধরনের নিম্নস্তরে।
জরিপে অংশ নেওয়া দুইটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব বিবেচনায় কিছু দেশের ক্ষেত্রে মার্চের উৎপাদন আরও কমানো হতে পারে।
রয়টার্সের এই জরিপে আর্থিক তথ্য প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-এর সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য, কেপলারসহ অন্যান্য ট্র্যাকিং সংস্থার উপাত্ত এবং তেল কোম্পানি, ওপেক ও পরামর্শকদের সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
