মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় ভাটা: ডলার ও তেলের দাম বাড়ায় স্বর্ণের বড় দরপতন
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আজ মঙ্গলবার তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির ক্ষীণ আশা ডলার এবং তেলের দরকে উসকে দিয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে মার্কিন সুদের হারের পূর্বাভাসকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৯৬.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে দিনের শুরুতে দাম বেড়ে গত ২১ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে ৪,৭০৩.২০ ডলারে নেমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখন 'লাইফ সাপোর্টে' রয়েছে। কারণ তেহরান সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে—যাকে ট্রাম্প 'আবর্জনা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, "(স্বর্ণের দাম কমার) প্রধান চালিকাশক্তি হলো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম, যা আজকের সিপিআই (ভোক্তা মূল্য সূচক) প্রকাশের আগে মার্কিন বন্ডের আয়ের হার বাড়াচ্ছে; সেই সাথে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও ভূমিকা রাখছে।"
সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায়, মূলত বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য আজ দিনের শেষভাগে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।
অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে, যা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা (হেজ) হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার এই অনুৎপাদনশীল সম্পদের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে।
বাজারের বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের আয়ের হার এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ডলারের মান ০.৪ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে অন্য মুদ্রার ধারকদের কাছে ডলার-নির্ভর পণ্যগুলো কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
মুদ্রাবাজারের ট্রেডাররা চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে আপাতত নাকচ করে দিচ্ছেন। সিএমই গ্রুপের 'ফেডওয়াচ টুল' অনুযায়ী, বাজার এখন ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সুদের হার বাড়ার ৩৬ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছে।
বাজারের নজর এখন বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দিনের চীন সফরের দিকেও রয়েছে। এই সফরে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আলোচনার একটি প্রধান এজেন্ডা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওলে হ্যানসেন আরও বলেন, "সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রয়েছে। এর সাপোর্ট লেভেল ৪,৫০০ ডলারে স্থির থাকলেও ৪,৭৫৭ ডলারের কাছাকাছি থাকা ৫০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ— একটি বাধা হিসেবে কাজ করছে।"
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রূপার দাম ৩ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৮৩.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ২.৭ শতাংশ কমে ২,০৭৭.৪৪ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৯ শতাংশ কমে ১,৪৭৯.৯১ ডলারে নেমেছে।
