ইরাকে মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে অপহরণ
একজন মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিককে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে অপহরণ করা হয়েছে, এবং ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘটনার অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইরান-সমর্থিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত।
আল-মনিটর নামের একটি সংবাদমাধ্যম, যেখানে তিনি লেখালেখি করতেন, জানিয়েছে যে শেলি কিটলসনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপহরণ করা হয়।
ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অপহরণকারীদের ধাওয়া করে। ধাওয়ার এক পর্যায়ে অপহরণকারীদের একটি গাড়ি উল্টে যায় এবং একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আটক হওয়া ব্যক্তির সঙ্গে ইরান-ঘনিষ্ঠ একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী—কাতায়িব হিজবুল্লাহ—এর সম্পর্ক রয়েছে।
গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন একজন মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, যদিও তিনি কিটলসনের নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'পররাষ্ট্র দপ্তর পূর্বেই ওই ব্যক্তিকে তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল এবং আমরা দ্রুত তার মুক্তি নিশ্চিত করতে এফবিআই-এর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখব।'
ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তারা কিটলসনকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন, এমনকি সোমবার রাতেও তার নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির কথা জানানো হয়।
বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, 'গোপনীয়তা ও অন্যান্য বিবেচনায় আমরা এই মুহূর্তে আর কোনো তথ্য দিতে পারছি না।'
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানায়, স্থানীয় খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের একটি হোটেলের কাছ থেকে কিটলসনকে অপহরণ করা হয়।
তারা আরও জানায়, পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে তারা কিটলসনের অপহরণের বিষয়টি জানে এবং তাকে মুক্ত করতে ইরাকি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।
আল-মনিটর কিটলসনের অপহরণে 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করে তার 'নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তির' আহ্বান জানায়।
একজন ইরাকি কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএসকে জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ 'সর্বোচ্চ পর্যায়ে' কাজ করছে তাকে মুক্ত করার জন্য।
তার জরুরি যোগাযোগ হিসেবে থাকা অ্যালেক্স প্লিটসাস, যিনি সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সিবিএসকে জানান, কিটলসনকে মার্কিন সরকার ইরান-সমর্থিত প্যারামিলিটারি গোষ্ঠীর একটি নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল।
জানা গেছে, কাটায়েব হিজবুল্লাহ নারী সাংবাদিকদের অপহরণ বা হত্যার পরিকল্পনা করছিল।
প্লিটসাস বলেন, কিটলসনকে সতর্ক করা হয়েছিল যে তার নাম কাটায়েব হিজবুল্লাহর একটি তালিকায় রয়েছে। আরেকটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, তাকে ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছিল, তবে তিনি মনে করেছিলেন এটি ভুয়া তথ্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিবিড় মাঠপর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের ধরতে অভিযান শুরু করে এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি অনুসরণ করে।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'ধাওয়ার এক পর্যায়ে অপহরণকারীদের একটি গাড়ি আটকানো হয়, যা পালানোর চেষ্টা করার সময় উল্টে যায়।'
মন্ত্রণালয় অপহরণকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেনি এবং তাদের 'অজ্ঞাত ব্যক্তি' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তারা আরও জানায়, 'অপহৃত নারীকে উদ্ধারের জন্য এবং বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে, এবং এই অপরাধে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ইতালির রোমে অবস্থানরত কিটলসন আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ার সংঘাত নিয়ে কাজ করেছেন। তার এক্স প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন প্রকাশনার সঙ্গে কাজ করেছেন।
সিবিএস জানায়, তার অপহরণের বিষয়ে এফবিআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, পররাষ্ট্র দপ্তর, ডেল্টা ফোর্স এবং ইরাকের কাউন্টার-টেররিজম সার্ভিসের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।
একসময় বাগদাদ অপহরণের জন্য কুখ্যাত ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে এ ধরনের ঘটনা কমে এসেছে।
