জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিক্ষোভে উত্তাল ফিলিপাইন
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটে ফিলিপাইনে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশটির রাজধানী ম্যানিলাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শত শত মানুষ। ফিলিপাইনের পরিবহন ইউনিয়নগুলোর ডাকা দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিপাইনে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা শহর প্রদক্ষিণ করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রাসাদের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পাঁচ সন্তানের জনক এবং জিপনি (স্থানীয় গণপরিবহন) চালক মাইকেল ল্যাবোর নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, "দিনে আমার আয় ৫০০ পেসো (৮.২৮ ডলার), যার বেশিরভাগই এখন সন্তানদের স্কুলের খরচে চলে যায়। দিনশেষে খাবার কেনার মতো টাকা হাতে থাকছে না। তেল কোম্পানিগুলো কেন প্রায় প্রতিদিন দাম বাড়াচ্ছে, প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সেই জবাব দিতে হবে।"
জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটের কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সতর্ক করে বলেছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এখন 'আসন্ন বিপদের' মুখে।
সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব মারিয়া তেরেসা লাজারো জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। তেলের চড়া দাম পুরো অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি প্রদান এবং পরিবহন খরচ কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া তেলের মজুতদারি, অতি-মুনাফা এবং সরবরাহ নিয়ে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিপাইন প্রশাসন।
চরম সংকটে পড়া ৪৬ বছর বয়সী আরেক চালক অ্যালান লাস পিনাস বলেন, "আগে আয়ের একটা অংশ প্রতিদিন সন্তানদের হাতে দিতে পারতাম, কিন্তু এখন তাদের ধৈর্য ধরতে বলি। আয় কমে যাওয়ায় সব টাকা খাবারের পেছনে চলে যায়, তাই তারা এখন স্কুলের হাতখরচ পাচ্ছে না।"
উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
