কলম্বিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৬৬, আহত বহু
কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ১২৫ জন আরোহী নিয়ে একটি সামরিক উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৬৬ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, পুতুমায়ো প্রদেশের প্রত্যন্ত আমাজনীয় পৌরসভা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে এই 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনা' ঘটেছে। প্রদেশটির সীমান্ত প্রতিবেশী দেশ পেরু ও ইকুয়েডরের সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনাস্থলে পাঠানো জরুরি কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধান করছেন। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, লকহিড মার্টিনের তৈরি 'হারকিউলিস সি-১৩০' মডেলের ওই উড়োজাহাজে করে পুতুমায়ো প্রদেশের অন্য একটি শহরে সেনা সদস্যদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ জানান, উড্ডয়নের স্থান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার (০.৯ মাইল) দূরে উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, উড়োজাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার ফলে ভেতরে থাকা গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কোনো 'অবৈধ গোষ্ঠীর হামলার' প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, আহতদের রাজধানী বোগোটা এবং অন্যান্য স্থানের হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ৭৪টি শয্যাবিশিষ্ট দুটি উড়োজাহাজ ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে কলম্বিয়া তাদের প্রথম হারকিউলিস সি-১৩০ উড়োজাহাজ কেনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা নতুন মডেলের মাধ্যমে তাদের কিছু পুরোনো সি-১৩০ উড়োজাহাজ আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।
গত মাসে বলিভিয়ার বিমানবাহিনীর আরেকটি হারকিউলিস সি-১৩০ উড়োজাহাজ এল আলতো শহরে বিধ্বস্ত হয়, যা অল্পের জন্য একটি আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।
