যে কারণে ইরানের ‘খারগ দ্বীপ’ এত গুরুত্বপূর্ণ
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পারস্য উপসাগরের উত্তরে ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত ছোট ভূখণ্ড 'খারগ দ্বীপের' সামরিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই দ্বীপে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল রয়েছে এবং এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিসাইল এবং মাইন মজুত রাখার জায়গাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, উপসাগরের অন্য প্রান্তে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথ বন্ধ করতে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিমান হামলায় দ্বীপের তেল অবকাঠামো এড়িয়ে চলা হয়েছে।
কেন খারগ দ্বীপ এত গুরুত্বপূর্ণ?
ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের খারগ দ্বীপে এমন সব সুবিধা রয়েছে, যা দিয়ে যুদ্ধের আগে ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত হতো।
ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের অন্যান্য অংশের পানি অগভীর হলেও, এই দ্বীপের চারপাশের গভীর পানি বড় বড় তেল ট্যাঙ্কার ভেড়ানোর জন্য বেশ অনুকূল।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান ১৯৬০-এর দশক থেকে সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির জন্য খারগ দ্বীপের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এখানে তেলের বিশাল মজুতাগার এবং পাইপলাইন রয়েছে, যা ইরানের বড় বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। এর অবকাঠামোতে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তা শুধু ইরানেরই ক্ষতি করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।
দ্বীপটি কতটা ব্যস্ত ছিল?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই টার্মিনালটি মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য একসঙ্গে ১০টি সুপারট্যাঙ্কারে তেল লোড করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এই দ্বীপে তিনটি প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো পরিচালিত হয়। এর মধ্যে 'ফালত ইরান অয়েল কোম্পানি'কে দেশটির সবচেয়ে বড় কোম্পানি হিসেবে ধরা হয়।
ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান ক্রেতা হলো চীন। তারা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে 'শ্যাডো ফ্লিট' এর মাধ্যমে এই তেল কেনে।
চীনে তেল রপ্তানি ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৬ শতাংশের সমান এবং এটি দেশটির মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশই আসত ইরান থেকে।
এর আগে কি কখনো হামলা হয়েছে?
এই দ্বীপে সবশেষ বড় ধরনের হামলা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়।
তখন সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে ইরাকি সামরিক বাহিনী দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে ভারী বোমা হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তবে ইরান পরবর্তীতে এসব স্থাপনা পুনরায় নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।
শুক্রবারের মার্কিন হামলার পর ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই হামলা ছিল বিশাল এবং ধ্বংসাত্মক।
তেল শোধনাগারের কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা একটানা বিস্ফোরণে ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল পুরো দ্বীপ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, খারগ দ্বীপের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে কোনো হামলা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেবে।
