ইরাকে হামলায় ফরাসি সেনা নিহত, আহত আরও বেশ কয়েকজন: মাখোঁ
উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক হামলায় একজন ফরাসি সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বৃহস্পতিবার জানান, চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার আর্নল্ড ফ্রিয়ন ইরাকের এরবিল অঞ্চলে অবস্থানকালে 'ফ্রান্সের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন'। এই হামলাকে তিনি 'অগ্রহণযোগ্য' বলে তীব্র নিন্দা জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মাখোঁ বলেন, 'ইরাকে তাদের উপস্থিতি কঠোরভাবে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইরানের যুদ্ধ এই ধরনের হামলাকে কোনোভাবেই বৈধতা দিতে পারে না।'
তিনি আরও জানান, ফ্রিয়নের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সৈন্য আহত হয়েছেন, যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি। মাখোঁ বলেন, 'ফ্রান্স তাদের এবং তাদের প্রিয়জনদের পাশে দাঁড়িয়েছে।'
২০১৫ সাল থেকে আইএসআইএস বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে ফরাসি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বাগদাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ বলেন, ইরাকের 'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স' এই হামলা এবং আরও ডজনখানেক হামলার দায় স্বীকার করেছে, যার মধ্যে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আবদেলওয়াহেদ আরও বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ইরাক এখন একটি 'দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্রে' পরিণত হয়েছে এবং তেহরান মার্কিন বাহিনীর সাথে যুক্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
তিনি বলেন, 'আমরা বুঝতে পারছি যে তারা ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, এমনকি এরবিলের কনস্যুলেট, বাগদাদের দূতাবাস এবং বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত ভিক্টরি বেসেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।'
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরাকের ইরানপন্থী গোষ্ঠী 'আসহাব আহল আল-কাহফ' শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'ইরাক এবং এই অঞ্চলে' ফরাসি স্বার্থগুলো এখন থেকে তাদের 'লক্ষ্যবস্তুর আগুনের নিচে' থাকবে।
মাখোঁ এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে দিলেন যার একদিন আগেই ফরাসি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় ছয়জন সৈন্য আহত হয়েছেন, তবে তারা মাখোঁ বর্ণিত সৈন্যদের দলের অন্তর্ভুক্ত কি না তা স্পষ্ট নয়।
পৃথকভাবে ইতালি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এরবিলে তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর বিমান হামলা হয়েছে, যেখানে ন্যাটোর কর্মীরা রয়েছেন। তবে এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো সৈন্য আহত হননি।
ফ্রান্স ২৪-এর তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাতের মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ফ্রান্সের ফ্ল্যাগশিপ বিমানবাহী রণতরী 'শার্ল দ্য গোল'-কে ভূমধ্যসাগরে এবং অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট সাইপ্রাসে মোতায়েন করবেন।
