উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য পানি শোধনাগার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাহরাইনের ওপর ইরানের ড্রোন হামলায় দেশটির একটি পানি শোধনাগার (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নয় দিনের এই যুদ্ধে এই প্রথম কোনো আরব দেশ তাদের পানি শোধনাগারে ইরানের হামলার কথা জানাল। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ কেশমে একটি পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। মরুবেষ্টিত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই শোধন কেন্দ্রগুলো কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা উঠে এসেছে ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা 'আরব সেন্টার'-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক স্বাদু পানির উৎস অত্যন্ত সীমিত। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সমুদ্রের লোনা পানি শোধনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জ্বালানিনির্ভর হলেও জীবনধারণের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই দেশগুলোর কাছে।
গবেষণা সংস্থা আরব সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের মোট পানি শোধন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই অঞ্চলের ৪০০টিরও বেশি শোধন কেন্দ্র থেকে বিশ্বের মোট শোধনকৃত পানির ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর বিশাল জনসংখ্যা তাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদার জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
পরিসংখ্যান বলছে, কুয়েতের মোট সুপেয় পানির ৯০ শতাংশই আসে এই শোধন কেন্দ্রগুলো থেকে। এছাড়া ওমানে ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবে ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪২ শতাংশ সুপেয় পানি সমুদ্রের লোনা পানি শোধনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
একক দেশ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শোধনকৃত পানি উৎপাদন করে সৌদি আরব। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৮৫ লাখ ঘনমিটারে (৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট) পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটি ইতিমধ্যে ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শোধন কেন্দ্রগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর 'লাইফলাইন' বা জীবনরেখা। ফলে যুদ্ধের ডামাডোলে এসব গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
