Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Wednesday
March 11, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
WEDNESDAY, MARCH 11, 2026
কেন ইরানে আক্রমণ? ৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ভিন্ন কারণ 

আন্তর্জাতিক

দি আটলান্টিক
07 March, 2026, 03:05 pm
Last modified: 07 March, 2026, 03:07 pm

Related News

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে যেভাবে ভুল সমীকরণ কষেছিলেন ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা
  • দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪
  • মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মুখে আরও কঠোর হয়ে উঠছে ইরান
  • গুগল, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যপ্রাচ্য অবকাঠামো ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হতে পারে: আইআরজিসি
  • ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই’: ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা, জনসমক্ষে শুনানির দাবি

কেন ইরানে আক্রমণ? ৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ভিন্ন কারণ 

দি আটলান্টিক
07 March, 2026, 03:05 pm
Last modified: 07 March, 2026, 03:07 pm
ছবি: মার্ক পিটারসন

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার তৃতীয় দিনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-কে 'ইতিহাসের সবচেয়ে নিখুঁত বিমান অভিযান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি কঠিন দাবি। তবে তার চেয়েও কঠিন কাজ হলো হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের বিবৃতিগুলো বিশ্লেষণ করে যুদ্ধের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা। কারণ, গত মাত্র ছয় দিনে ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের অন্তত ১০টি আলাদা আলাদা কারণ বা যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে।

শনিবার ভোরে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কিছুক্ষণ পরেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া আট মিনিটের এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কিছু ব্যাখ্যা দেন। তার মতে, যুদ্ধের প্রথম কারণ হলো ইরানি শাসনের 'আসন্ন হুমকি' নির্মূল করা—যা সরাসরি 'যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের সৈন্য, বিদেশের ঘাঁটি এবং মিত্রদের বিপন্ন করছে'। (যুক্তি ১: আসন্ন হুমকি)।

দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, অভিযানের উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে ইরানি শাসকগোষ্ঠী যেন 'কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়'। (যুক্তি ২: পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ)। 

তৃতীয়ত, তিনি যোগ করেন, এই অঞ্চলের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা প্রক্সি বাহিনীগুলো যেন এই অঞ্চল বা বিশ্বের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। (যুক্তি ৩: মিলিশিয়া দমন)।

ভাষণ শেষ করার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প যুদ্ধের একটি বড় ও নতুন কারণ সামনে আনেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের জন্য 'নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করার' এবং একটি 'সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ভবিষ্যৎ' গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া। অর্থাৎ, বর্তমান সরকারকে হটিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন। (যুক্তি ৪: শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন)। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আবারও এই কারণটির ওপর জোর দিয়ে জানান, ৪৭ বছরের ধর্মতান্ত্রিক শাসন থেকে ইরানি জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, 'আমি শুধু ইরানি জনগণের মুক্তি চাই।' 

এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর কমান্ডারের মাথায় আরেকটি কারণ ভর করে। তিনি 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লেখেন, '২০২০ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে থামাতে ইরান হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিল, আর এখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন যুদ্ধের মুখোমুখি।' (যুক্তি ৫: নির্বাচনে হস্তক্ষেপ)।

শনিবার পরে দেওয়া অ্যাক্সিওস–কে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পক্ষে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় যুক্তি আবারও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ওই আলোচনা পরিচালনা করছিলেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী থেকে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত হয়ে ওঠা স্টিভ উইটকফ।

ট্রাম্প আরও বলেন, বোমা হামলা শুরুর আগের দিন নিজের ভাষণ লিখতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে, অঞ্চলজুড়ে ইরানের সহিংস কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তার ভাষায়, 'আমি দেখলাম প্রায় প্রতি মাসেই তারা কোনো না কোনো খারাপ কাজ করেছে—কোথাও কিছু উড়িয়ে দিয়েছে কিংবা কাউকে হত্যা করেছে।'

শনিবার বিকেলে ট্রাম্পের কন্ঠে যুদ্ধের আরও উচ্চাভিলাষী এক যৌক্তিকতা শোনা যায়। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের খবরের মধ্যে তিনি ঘোষণা করেন যে, 'মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রকৃতপক্ষে পুরো বিশ্বে শান্তি অর্জনের জন্য যতক্ষণ প্রয়োজন এই অভিযান চলবে!' (যুক্তি ৬: বিশ্বশান্তি)।

রোববার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার দ্বিতীয় যুক্তির কথাই তুলে ধরেন—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ঠেকানো। তার দাবি, সময়ও নাকি খুব কম ছিল। তিনি ফক্স নিউজ–কে বলেন, 'আমরা যদি এটা না করতাম, তাহলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই তাদের হাতে একটি পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসত।' তবে প্রথম মন্তব্যে তিনি এমন কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি।

সেই একই সকালে ট্রাম্প এনবিসি নিউজ–কেও বলেন, হামলা চালানোর কারণ ছিল সহজ। তার ভাষায়, 'তারা বলতে রাজি ছিল না যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না।'

(প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ্য, গত জুনে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দিয়েছিল যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং 'এর বিপরীত যেকোনো দাবি ভুয়া খবর'। তবে গত মাসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত গ্রীষ্মে ওই হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে সেই কাজ ছিল ধীর এবং সীমিত। এদিকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি–র প্রধান সোমবার বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও তা তৈরির জন্য তাদের কোনো 'সুশৃঙ্খল কর্মসূচি' নেই।)

ইরানের জনগণের স্বাধীনতাকে সমর্থন করা এবং শাসন পরিবর্তনের চাপ দেওয়ার বিষয়টি (যুক্তি নং ৪) নিয়ে রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা কথার সুর নরম করেন। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে গভীর রাতে আটক করার এবং এরপর থেকে মাদুরোর সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজ–এর সঙ্গে তার প্রশাসনের কাজ করার আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–কে বলেন, 'ভেনেজুয়েলায় আমরা যা করেছি, আমার মনে হয় সেটাই ছিল একেবারে নিখুঁত পরিস্থিতি।' 

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরানের জনগণ যদি বর্তমান সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি তাদের রক্ষা করবে—যেমনটা তিনি আগের দিন করতে উৎসাহ দিয়েছিলেন—তখন ট্রাম্প বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কোনো দিকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না।' একই সকালে তিনি আটলান্টিকের মাইকেল শেরার–কে বলেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ইরানি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, 'তাদের এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। তারা খুব চালাকি করার চেষ্টা করেছিল।'

এর কিছুক্ষণ পরই ট্রুথ সোশ্যাল–এ একটি আগে থেকে রেকর্ড করা ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, 'যতক্ষণ না আমাদের সব লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ অভিযান চলতে থাকবে।' এই ব্যাখ্যায় তিনি আগের 'বিশ্বশান্তি' ধারণাকে আরও প্রসারিত করে ভবিষ্যতের কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, 'আমরা এই বিশাল অভিযান চালাচ্ছি শুধু আমাদের সময় ও স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং আমাদের সন্তানদের জন্য এবং তাদের সন্তানদের জন্যও—যেমন বহু বছর আগে আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য করেছিলেন।' (যুক্তি নং ৭: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।)

এরপর রোববার রাতে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, নিজের প্রাণ বাঁচাতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আলী খামেনির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, 'সে আমাকে ধরার আগেই আমি তাকে ধরেছি।' উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে ইতিমধ্যে দুজন অভিযুক্তের বিচার চলছে নিউ ইয়র্কে। (যুক্তি ৮: আগাম আঘাত বা সেলফ-প্রিজারভেশন)।

নতুন সপ্তাহ শুরু হতেই প্রশাসনের অধস্তন কর্মকর্তাদের মধ্যে আরেকটি কারণ ঘুরপাক খেতে থাকে। গত সোমবার এক ব্রিফিংয়ে একজন কমব্যাট ইউনিট কমান্ডার তার কর্মকর্তাদের বলেন যে, এই যুদ্ধ মূলত 'ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ'। ট্রাম্পকে যিশু অভিষিক্ত করেছেন ইরানে যুদ্ধের সংকেত দেওয়ার জন্য, যা কিয়ামত বা আরমাগেডনের পথ প্রশস্ত করবে। (যুক্তি ৯: ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পূরণ)।

গত সোমবার থেকে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বন্ধ করার বিষয়টি (যুক্তি নম্বর ২) আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, 'ইরানের মতো উন্মাদ শাসনব্যবস্থা, যারা প্রফেটিক ইসলামি বিভ্রান্তিতে আচ্ছন্ন, তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।' 

একই বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প এই হামলার অনুমতি দিয়েছেন কারণ তিনি জানতেন ইরান 'পারমাণবিক অস্ত্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ'। তবে এখানে কথার অমিল লক্ষ্য করা গেছে—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন ইরান পরমাণু অস্ত্রের 'দুই সপ্তাহ দূরে' আছে, আর ভ্যান্স বলছেন তারা সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে 'প্রতিজ্ঞাবদ্ধ'।

এদিকে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কেন এই হামলা চালানো হলো, তার স্বপক্ষে 'আসন্ন হুমকি'র প্রমাণ খুঁজছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইসরায়েল অনেকটা পেন্টাগনকে বাধ্য করেছে। তার ভাষ্যমতে, 'আমরা যদি অন্য কারো (ইসরায়েল) হামলার পর তাদের (ইরান) পাল্টা আঘাতের জন্য অপেক্ষা করতাম, তবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতো।' হাউস স্পিকার মাইক জনসনও প্রায় একই কথা বলেন। তিনি জানান, ইসরায়েল যেহেতু একাই হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল, তাই ট্রাম্প প্রশাসনকে এই 'অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত' নিতে হয়েছে। (যুক্তি ১০: ইসরায়েল আমাকে বাধ্য করেছে)।

তবে এই যুক্তিটি ২৪ ঘণ্টাও টেকেনি। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প এর উল্টো দাবি করে বলেন, 'বরং আমিই হয়তো ইসরায়েলকে বাধ্য করেছি।' এরপর রুবিও বাধ্য হয়ে নিজের বক্তব্য ফিরিয়ে নেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আগেই নেওয়া হয়েছিল। রুবিও আরও যোগ করেন, ইরানের উগ্র ধর্মীয় নেতাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা একটি 'অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি'। (যুক্তি ৪)। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আবারও আগের যুক্তিতে ফিরে গিয়ে বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য শুরু থেকেই যা ছিল তাই আছে—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।' অর্থাৎ, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি যেন ঢাকা পড়ে গেল।

বুধবার যুদ্ধের যৌক্তিকতা আবারও শুরুর বিন্দুতে ফিরে আসে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট আবারও 'আসন্ন হুমকি'র (যুক্তি ১) কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য ছিল যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদের ওপর আঘাত হানতে পারে। যদিও পেন্টাগনের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, ইরান আগে হামলা করার পরিকল্পনা করছে এমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বুধবারের ব্রিফিংয়ে আরও একটি কারণ সামনে আনেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যেসব ইরানি নেতা প্রেসিডেন্টের জীবননাশের হুমকি দিয়েছিলেন, তাদের সরিয়ে দেওয়াও এই অভিযানের একটি অংশ। হেগসেথ বলেন, 'আমরা অনেকদিন ধরেই জানতাম ট্রাম্প বা অন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা ছিল ইরানের।' ট্রাম্প নিজেও এই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা একটি ভিডিও ক্লিপে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমিই ছিলাম শিকার, আর এখন আমিই শিকারি।'

একই দিনে প্রযুক্তি খাতের নেতাদের সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে 'ভেনেজুয়েলা মডেল' বা কারাকাস মডেলের উদাহরণ টানেন। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরান ও ইরাকের কুর্দি সংখ্যালঘু নেতাদের সাথে কথা বলেছেন এবং ইরানের পশ্চিমাঞ্চল দখলের জন্য মার্কিন বিমান সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানের পরবর্তী নেতা কে হবেন, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ত থাকা জরুরি। তিনি বলেন, 'ভেনেজুয়েলার ডেলসির মতো এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমাকেও থাকতে হবে।' 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তির রদবদল চললেও সামরিক অভিযান থেমে নেই। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে যে তারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। তবে এই ছয় দিনের যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ৬ জন মার্কিন সৈন্য এবং আনুমানিক ১ হাজারেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক কংগ্রেস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিন করদাতাদের প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) খরচ হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, যদি কেউ বুঝতে না পারেন কেন তারা যুদ্ধ করছে, তাহলে সেটা আপনার বোঝার অক্ষমতা। সোমবার হেগসেথ বলেন, প্রশাসন স্পষ্টভাবে চিন্তা করছে এবং 'অতীতের বোকা নীতি' এড়িয়ে চলবে। হোয়াইট হাউস বুধবার এক্স–এ জানিয়েছে, 'আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। আমরা থামব না যতক্ষণ না তা অর্জিত হয়।'
 

Related Topics

টপ নিউজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প / ইরান আক্রমণ / ইরান যুদ্ধ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: টিবিএস
    তিন শর্তে পেট্রোল পাম্প থেকে দিনে ৫ লিটার তেল পাবে রাইড শেয়ারিং মোটরবাইক
  • ছবি: এএফপি
    নেতানিয়াহুর নিহত অথবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ইরানি সংবাদমাধ্যমে; তুমুল জল্পনা
  • ফ্রান্সের প্যারিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা বাম থেকে- স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: গেটি/ ভায়া দ্য নিউ রিপাবলিক
    কুশনার, উইটকফ দুজনেই নির্বোধ, তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প
  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নির্মম বোমাবর্ষণ চলছেই, ২০ বছরে ভিয়েতনামে ফেলা হয় ৭৫ লাখ টন
  • প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত
    এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বেশি চাইছে ব্যাংকগুলো
  • আব্বাস আরাকচি। ছবি: রয়টার্স
    সাধারণ আমেরিকানদের ক্ষতি করতে চায় না ইরান; মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে আরাগচির কটাক্ষ

Related News

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে যেভাবে ভুল সমীকরণ কষেছিলেন ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা
  • দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪
  • মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মুখে আরও কঠোর হয়ে উঠছে ইরান
  • গুগল, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যপ্রাচ্য অবকাঠামো ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হতে পারে: আইআরজিসি
  • ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই’: ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা, জনসমক্ষে শুনানির দাবি

Most Read

1
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

তিন শর্তে পেট্রোল পাম্প থেকে দিনে ৫ লিটার তেল পাবে রাইড শেয়ারিং মোটরবাইক

2
ছবি: এএফপি
আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর নিহত অথবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ইরানি সংবাদমাধ্যমে; তুমুল জল্পনা

3
ফ্রান্সের প্যারিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা বাম থেকে- স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: গেটি/ ভায়া দ্য নিউ রিপাবলিক
আন্তর্জাতিক

কুশনার, উইটকফ দুজনেই নির্বোধ, তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প

4
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
ফিচার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নির্মম বোমাবর্ষণ চলছেই, ২০ বছরে ভিয়েতনামে ফেলা হয় ৭৫ লাখ টন

5
প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বেশি চাইছে ব্যাংকগুলো

6
আব্বাস আরাকচি। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

সাধারণ আমেরিকানদের ক্ষতি করতে চায় না ইরান; মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে আরাগচির কটাক্ষ

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net