মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে শীর্ষ শোধনাগারগুলোকে ডিজেল ও পেট্রল রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ চীনের
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিজেল ও পেট্রলের রপ্তানি স্থগিত করতে দেশের শীর্ষ তেল শোধনাগারগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে চীন সরকার।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশনের (এনডিআরসি) কর্মকর্তারা শোধনাগারগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে পরিশোধিত জ্বালানির চালান তাৎক্ষণিকভাবে ও সাময়িকভাবে স্থগিত করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্রগুলো আরও জানায়, শোধনাগারগুলোকে নতুন চুক্তিতে সই করা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব চালানের বিষয়ে ইতিমধ্যে চুক্তি হয়েছে, সেগুলোও আলোচনার মাধ্যমে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বন্ডেড গুদামে থাকা উড়োজাহাজের জ্বালানি (জেট ফুয়েল) এবং জাহাজের জ্বালানি (বাংকার ফুয়েল) এর আওতার বাইরে থাকবে। হংকং ও ম্যাকাওতে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না।
পেট্রোচায়না কোং, সিনোপেক, সিএনওওসি লিমিটেড, সিনোকেম গ্রুপ এবং বেসরকারি শোধনাগার ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যাল কোং নিয়মিতভাবে সরকারের কাছ থেকে জ্বালানি রপ্তানির কোটা বা অনুমোদন পেয়ে থাকে। ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এনডিআরসিও তাৎক্ষণিকভাবে ব্লুমবার্গের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
চীনের বিশাল তেল শোধনাগার খাত রয়েছে। তবে এর উৎপাদনের বড় অংশই দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে চীনের ভূমিকা অতটা বড় নয়। এশিয়ায় সমুদ্রপথে জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের পরই অবস্থান চীনের।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট ঘনীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানিনির্ভর এশিয়া অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বেইজিংয়ের এই সতর্কতামূলক নিষেধাজ্ঞায় তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় কোনো তেল বা জ্বালানিই বের হতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে জাপান থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের শোধনাগারগুলোও এরই মধ্যে তাদের উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে এবং জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত রাখছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও দেশটি তাদের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই নিয়ে আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এর মধ্যে ইরানের প্রায় সব কটি তেলের চালানই চীনে যায়।
