ড্রোন হামলায় সৌদির বৃহৎ তেল শোধনাগারসহ কুর্দি ও ইসরায়েলি গ্যাস ক্ষেত্র বন্ধ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সৌদি আরবের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার আরামকোর 'রাস তানুরা' বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) একটি ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ইরাকি কুর্দিস্তান ও ইসরায়েলের বড় বড় তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে গত তিন দিন ধরে চলা সংঘাতের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের কারণে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে ইরাকি কুর্দিস্তানের অধিকাংশ তেল উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের প্রধান গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে মিশরে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে।
সৌদি আরবের পরিস্থিতি
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর 'রাস তানুরা' শোধনাগারটি দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন করতে সক্ষম। এটি কেবল দেশের বৃহত্তম শোধনাগারই নয়, সৌদি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান টার্মিনাল।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভিকে জানান, স্থাপনাটি লক্ষ্য করে আসা দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে সীমিত আকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-কে জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বন্ধ কুর্দিস্তান ও ইসরায়েলের তেল-গ্যাস ক্ষেত্র
ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে ফেব্রুয়ারিতেও দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল তেল তুরস্কের জেহান বন্দরে পাঠানো হতো। বর্তমানে ডিএনও, গালফ কিস্টোন পেট্রোলিয়াম, দানা গ্যাস এবং এইচকেএন এনার্জির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের শেভরন পরিচালিত বিশাল 'লেভিয়াথান' গ্যাসক্ষেত্রটি শনিবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া এনার্জিয়ান কোম্পানিও তাদের উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর ফলে মিশরে ইসরায়েলি গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
