২০২৬ সালের মধ্যেই তীব্র বায়ুদূষণ নির্মূল করতে চায় চীন
চলতি বছরের শেষ নাগাদ তীব্র বায়ুদূষণ কার্যকরভাবে নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চীন। দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে দেশটির পরিবেশ কর্মকর্তারা 'নীল আকাশের জন্য লড়াই' আরও জোরদার করেছেন।
চীনের বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ দপ্তরের পরিচালক লি তিয়ানওয়েই জানিয়েছেন, চীন তার বায়ুমানের পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে। পাশাপাশি বাতাসে থাকা ক্ষতিকারক কণা (পিএম২.৫) ও ওজোন দূষণ মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।
গত সোমবার দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী লি বলেন, 'নীল আকাশের জন্য আমাদের লড়াইয়ের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।'
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কিছুটা উন্নতি সত্ত্বেও বায়ুদূষণ চীনের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এখনও বড় একটি সমস্যা। সংস্থাটির তথ্যমতে, চীনে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণের কারণে মারা যান। এর মধ্যে ১০ লাখ মানুষ বাইরের বায়ুদূষণের প্রভাবে এবং বাকি ১০ লাখ মানুষ ঘরের ভেতরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত দূষণকারী জ্বালানি ও প্রযুক্তির কারণে প্রাণ হারান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ৫০ মাইক্রোগ্রামের বেশি পিএম২.৫ কণা থাকলে তাকে 'মারাত্মক' বায়ুদূষণ ধরা হয়।
লি তিয়ানওয়েই জানান, ২০২৪ সালে চীনের বায়ুমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। শহরগুলোতে পিএম২.৫ কণার গড় ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৯.৩ মাইক্রোগ্রাম, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৭ শতাংশ কম। এছাড়া, বছরে ভালো বায়ুমানের দিনগুলোর হার ছিল ৮৭.২ শতাংশ।
লি আরও জানান, চীনকে এখন বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নতুন নিঃসরণ নীতি চালু করতে হবে। বিমানবন্দর, বন্দর এবং লজিস্টিক পার্কগুলোতে নতুন শক্তির যানবাহন ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এছাড়া সড়কপথের ওপর চাপ কমিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দীর্ঘপথের জন্য রেলপথ ও জলপথকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পরিবেশ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবুজ জীবনধারা প্রচারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃতি সংরক্ষণ একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ গঠনের অপরিহার্য অংশ।
