ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েল থেকে অত্যাবশ্যকীয় নয়, এমন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকতেই মার্কিন নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এছাড়া ইসরায়েলে ভ্রমণ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই সতর্কতা জারি করা হলো। তবে আগামী সপ্তাহে আরও আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ (রণতরী বহর) প্রস্তুত রেখেছেন। তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে 'আন্তরিক' না হলে আক্রমণ চালানোর জন্য এই রণতরীগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তার পাশাপাশি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাসের কর্মীদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, যারা ইসরায়েল ছাড়তে চান, তারা যেন 'আজই' তা করেন।
স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪ মিনিটে পাঠানো ইমেইলে তিনি দূতাবাসের কর্মীদের দ্রুত যেকোনো স্থানের ফ্লাইটে টিকিট বুক করার পরামর্শ দেন।
তিনি লেখেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে আজ বিমানের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হতে পারে। 'আপনাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কোনো স্থানে পৌঁছানো যেখান থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া সম্ভব। তবে এখনকার প্রধান অগ্রাধিকার হলো যত দ্রুত সম্ভব এই দেশ ছাড়া।'
ইসরায়েল ছাড়ার এই আহ্বান এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মূল মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন। একে ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার শেষ প্রচেষ্টা মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলবুসাইদি এ সফরে গেলেন। অর্থাৎ যারা সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বলছেন তাদের থামাতে হলে তাকে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
দুই পক্ষের মধ্যে যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইরানি নেতৃত্বের বক্তব্যে। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কঠোরতম দাবিগুলো থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কাশনার আলোচনার পর কোনো বিবৃতি দেননি, যা পরিস্থিতির নেতিবাচক অবস্থারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে জেডি ভ্যান্স সামরিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে বড় বিরোধী। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদির লক্ষ্য তাকে বোঝানো যে, দ্রুত সামরিক হামলা ইরানের মূল আলোচনার অবস্থানে পরিবর্তন আনবে না।
ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন: 'আমরা মধ্যপ্রাচ্যে বছরের পর বছর ধরে অন্তহীন যুদ্ধে লিপ্ত থাকব—এমনটা ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।' অবশ্য ট্রাম্প শেষপর্যন্ত সামরিক হামলা সমর্থন করবেন কি না, সেটিও তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন।
ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ইরান তার বিরোধিতা করছে। দেশটি বলছে, তারা অভ্যন্তরীণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার পুরোপুরি ত্যাগ করতে রাজি নয়। গত জুলাইয়ে ইরানের পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ হয়, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি সংস্থাটির পরিদর্শকদের ইরানে ফেরার অনুমতি দেওয়ার আগে দেশটির 'ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার'কে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।
