ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বায়ুকল বোকাদের জন্য’; জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর নতুন বায়ুশক্তি প্রকল্পে চুক্তি সই
গত মাসে দাভোসে এক ভাষণে বায়ুকল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যন্ত্রগুলোকে 'অকেজো' বলে অভিহিত করার পাশাপাশি যারা এগুলো কেনে, তাদের 'বোকা' বলে খোঁচা দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের মাত্র পাঁচ দিন পরই এর উল্টো পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপ। উত্তর সাগরে বিশাল এক উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ইউরোপের নয়টি দেশ।
মজার বিষয় হলো, সমুদ্রের এই অঞ্চলটি একসময় ইউরোপের তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেখানেই গড়ে তোলা হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই বিশাল কেন্দ্র।
গত জানুয়ারিতে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত 'নর্থ সি সামিট'-এ বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্য এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের তার ব্যবহার করে উপকূলীয় দেশগুলোতে ১০০ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ সরবরাহ করা। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৫ কোটি পরিবারের জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপ সরাসরি ট্রাম্পের বক্তব্যের পাল্টা জবাব না হলেও এর পেছনে বড় একটি কৌশল রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেলের নির্ভরতা কমিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি 'অস্থির' অংশীদার মনে করছে ইউরোপ। তাই নিজের পায়ে দাঁড়াতে বায়ুবিদ্যুৎকেই সেরা বিকল্প ভাবছে তারা।
এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই এশিয় দেশগুলোও। ভারত অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালে চীন বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানির চেয়েও বেশি।
পুরো বিশ্ব যখন পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, যুক্তরাষ্ট্র তখন বায়ু বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর রাশ টেনে ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি বা খনিজ তেলের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
বেলজিয়ামের ঘেন্ট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক থিজ ফন ডি গ্রাফ বলেন, জ্বালানি প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা রাশিয়ার মতো তেলনির্ভর দেশগুলোর সমগোত্রীয় হয়ে উঠছে।
