পাহাড়চূড়ায় বরফে জমে প্রেমিকার মৃত্যু; ‘একা ফেলে আসায়’ বিচারের মুখোমুখি অস্ট্রিয়ান পর্বতারোহী
অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ গ্রোসগ্লকনার। সেই পাহাড়ের চূড়ার মাত্র ৫০ মিটার নিচে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জমে মৃত্যু হয় ৩৩ বছর বয়সী এক নারীর। সেই মৃত্যুর দায়ে এখন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে তার প্রেমিককে। অভিযোগ উঠেছে, চরম অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই করুণ মৃত্যু হয়েছে ওই নারীর।
২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম কেরস্টিন জি। তার প্রেমিক ৩৬ বছর বয়সী থমাস পি একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী।তাঁরা দুজনে মিলে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা ধরে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে ওঠে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, থমাস পি অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় কেরস্টিন তখন ক্লান্তিতে প্রায় অচেতন। সাহায্যের খোঁজে তাঁকে একা রেখেই নিচে নেমে যান থমাস। পরে উদ্ধারকারীরা কেরস্টিনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
চূড়ার কাছাকাছি রেখে আসায় তিনি হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া) আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এই মামলার রায়ের ওপর ভবিষ্যতে পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চার বা মাউন্টেন স্পোর্টসের ক্ষেত্রে আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়টি প্রভাবিত হতে পারে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৮ জানুয়ারি সকালে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৯ ডিগ্রি নিচে নেমে যায়, আর কনকনে বাতাসের কারণে সেই ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিল মাইনাস ২০ ডিগ্রির মতো। সঙ্গে ছিল ঘণ্টায় ৪৫ মাইল বেগে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়া।
যদি থমাস পি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁর তিন বছরের জেল হতে পারে। বৃহস্পতিবার ইনসব্রুকের একটি আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
থমাসের বিরুদ্ধে ৯টি বড় ভুলের তালিকা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও পাহাড় চড়া চালিয়ে যাওয়া, দুই ঘণ্টা দেরি করে যাত্রা শুরু করা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে না রাখা। এমনকি কেরস্টিন যে স্নোবোর্ড বুট পরেছিলেন, তা পাহাড় চড়ার উপযোগী ছিল না জেনেও থমাস তাকে সতর্ক করেননি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে নিহত কেরস্টিনের মা থমাসের কোনো দোষ দেখছেন না। বরং তিনি মনে করেন, থমাসকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'কেরস্টিনকে 'বোকা মেয়ে' হিসেবে দেখানো হচ্ছে দেখে আমি ক্ষুব্ধ। সে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড ফিট ছিল এবং এর আগে একা ও প্রেমিকের সঙ্গে আরও অনেক উঁচু পাহাড় জয় করেছে।'
বছরে প্রায় ৭ হাজার মানুষ অস্ট্রিয়ার এই সর্বোচ্চ পাহাড়ে চড়েন। আগে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কেরস্টিনের মৃত্যু পুরো ইউরোপে পাহাড় চড়া বা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের ক্ষেত্রে আইনি দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে থমাসের তিন বছরের জেল হতে পারে।
