ভারতে মুসলিম বৃদ্ধকে বাঁচানোতে হিন্দু যুবকের জিমে সদস্য কমে গেল; পাশে দাঁড়াল আইনজীবী সমাজ
ভারতের উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারে একটি দোকানের নাম নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর জনশূন্য হয়ে পড়েছে দীপক কুমারের 'হাল্ক' জিম। এ জিমের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রায় এক ডজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। সূত্র বলছে, এক সময় ১৫০-এর বেশি সদস্য থাকা এই জিমটি বর্তমানে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
৪২ বছর বয়সী জিম মালিক দীপক কুমার এর আগে পিটিআই-কে বলেন, 'বাবা' নামের একটি পোশাকের দোকানের নাম নিয়ে বজরং দলের কর্মীদের বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার পর থেকে তার ব্যবসা ধসে পড়েছে। সেখানে তিনি নিজেকে 'মোহাম্মদ দীপক' হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জানান, চলমান উত্তেজনার ফলে তার জীবিকা আজ সংকটের মুখে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ১২ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওই জিমের এক বছরের সদস্যপদ কিনেছেন এবং প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে ফি দিয়েছেন। ওই আইনজীবীর মতে, মূল অবদানকারীদের নামে তৈরি মেম্বারশিপ কার্ডগুলো স্থানীয় জিমপ্রেমীদের দেওয়া হবে যারা ফি দিতে অক্ষম।
দীপক পিটিআই-কে বলেন, 'আগে আমার জিমে ১৫০ জনের বেশি লোক প্রশিক্ষণ নিত। কিন্তু এই বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে সদস্য সংখ্যা কমে মাত্র ১২-১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরণের ঝামেলা এড়াতে নিয়মিত সদস্যরাও জিম থেকে দূরে থাকছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন দীপককে কিছু অন্য আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অন্য এক আইনজীবী বলেন, 'আইনজীবী সমাজ দীপকের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে।'
গত ২৬ জানুয়ারি, কোটদ্বারের প্যাটেল মার্গের 'বাবা' পোশাকের দোকানের ৭০ বছর বয়সী মালিক উকিল আহমেদকে দোকানের নাম পরিবর্তন করতে চাপ দেওয়ার জন্য বজরং দলের কর্মীরা বিক্ষোভ করে।
ওই প্রতিবাদের সময় বজরং দলের সদস্য, উকিল আহমেদ এবং তার ছেলের বন্ধু দীপক কুমারের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় দীপক নিজেকে মোহাম্মদ দীপক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করেন।
পরবর্তীতে 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর একটি ভাইরাল ভিডিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। ওই ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ১২ ফেব্রুয়ারি কোটদ্বারে গিয়ে 'দীপককে শিক্ষা দেওয়ার' হুমকি দিতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে।
