ক্রিকেটের এই সংকটই কাল হতে পারে ভারতের অলিম্পিক স্বপ্নের জন্য
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সদস্য কিতারোভিচ সম্প্রতি সতর্ক করেছেন 'খেলাধুলার ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ' এবং ভবিষ্যৎ আয়োজকদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে।
ভারতের সমর্থকরা যুক্তি দেখাতে পারেন যে, প্রতিটি দেশই খেলাধুলার উদারতার সঙ্গে নিরাপত্তার উদ্বেগের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই সার্বভৌম বিষয়। ঠিক আছে, মানলাম। কিন্তু ভারত যদি অলিম্পিক আয়োজন করতে চায়, তবে তাদের আরও উঁচু মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে কোনো রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই তারা বিশ্বকে—অর্থাৎ পুরো বিশ্বকে—স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ অ্যাথলেটকে আতিথেয়তা দিতে হবে। এর সঙ্গে কর্মকর্তা, গণমাধ্যম এবং লাখ লাখ দর্শক তো আছেই।
বর্তমান সংকট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত গেমসে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারছে না অথবা করতে চাইছে না। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, মোদি সরকার মনে হয় বুঝতেই চাইছে না কেন তাদের এটা করা উচিত। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভিসা না দেওয়ার পেছনের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি দেশের ভেতরে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতি কঠোর অবস্থান দেখিয়ে মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ফায়দা লোটে। কিন্তু দেশের রাজনীতিতে যা কাজে দেয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তা অচল।
বিশ্বকাপ নিয়ে এই নাটক আইওসি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ২০৩৬ সালের আয়োজক হতে চাওয়া চিলি, ইন্দোনেশিয়া, কাতার ও তুরস্কের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও বসে নেই। ভারতের কর্মকাণ্ড তাদের হাতেই শক্তিশালী যুক্তি তুলে দিচ্ছে: নয়াদিল্লি যদি তাদের সহ-আয়োজক হিসেবে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে না পারে, তবে অলিম্পিকের মতো আসরে তাদের ওপর ভরসা করা হবে কীভাবে?
মোদি চান ভারতকে একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে দেখা হোক, যারা বিশাল ও জটিল সব আয়োজন সামলাতে সক্ষম। কিন্তু অলিম্পিক আয়োজন মানে শুধু স্টেডিয়াম আর হোটেল বানানো নয়। এটি অলিম্পিক চেতনার প্রতি মৌলিক অঙ্গীকার প্রমাণের বিষয়। সেই বিশ্বাস থাকতে হবে যে খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং প্রতিযোগিতা হবে খেলার মাঠে, ভিসা অফিসে নয়। আর ঠিক এই জায়গাতেই ভারত এখন চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
