ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে ‘ভালো শুরু’ বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৈঠক করেছেন দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ওমানের রাজধানী মাসকাটে পরোক্ষভাবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই উত্তেজনার জেরে উভয় দেশের মধ্যে এখন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসির।
গত মাসে ইরানে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ব্যাপক সহিংসতার জেরে যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখন এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ সহিংসতায় কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বৈঠককে একটি 'ভালো শুরু' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আলোচকরা এখন নিজ নিজ দেশে ফিরে পরামর্শ করবেন।
ইরান এর আগে বলেছিল, এই আলোচনা শুধু তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়ও থাকতে হবে।
এর আগে ওমান জানিয়েছিল, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
ওমান বলেছে, এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সর্বশেষ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল গত বছরের জুনে। কিন্তু ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
সম্প্রতি ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালাবে। দেশটি ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প এটিকে 'বিশাল নৌবহর' বলে বর্ণনা করেছেন।
ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারাও ছেড়ে কথা বলবে না। প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
