রোমের গির্জায় চিত্র সংস্কারের পর দেবদূতের মুখের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির মিল,তদন্ত শুরু
রোমের একটি ঐতিহাসিক গির্জার সংস্কার করা এক দেয়ালে (ফ্রেস্কো) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মতো দেখতে এক দেবদূত আঁকা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর দেশটিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চার্চ কর্তৃপক্ষ এবং সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রোমের 'ব্যাসিলিকা অব সেন্ট লরেন্স ইন লুসিনা' গির্জায় বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। অন্যদিকে রোম ডায়োসিস তাদের 'অসন্তোষ' প্রকাশ করে বলেছে, এই কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতালীয় সংবাদপত্র 'লা রিপাবলিকা' প্রথম এই ঘটনাটি সামনে আনে। তারা ছবিটির আগের এবং পরের সংস্করণ প্রকাশ করে দাবি করে, আগে দেবদূতটি ছিল সাধারণ চেহারার। কিন্তু সংস্কারের পর ইতালির মানচিত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দেবদূতের চেহারা এখন হুবহু প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মতো।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৮৩ বছর বয়সী শিল্পী ব্রুনো ভালেনতিনেত্তি। তিনি বলেন, ২০০০ সালে তিনি নিজেই এই ফ্রেস্কোটি এঁকেছিলেন এবং সম্প্রতি কেবল পুরনো কাজটিতে রঙের প্রলেপ দিয়েছেন। শিল্পী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, 'কে বলেছে এটি দেখতে মেলোনির মতো? আমি তো আগের ছবিই ঠিক রেখেছি।'
গির্জার প্রধান যাজক মনসিনিয়র দানিয়েল মিশেলেত্তি বিষয়টিকে বড় করে দেখতে রাজি নন। তিনি বলেন, 'পানির কারণে ছবিটির ক্ষতি হয়েছিল, তাই একটু সংস্কার করা হয়েছে। এখানে বিতর্কের কী আছে বুঝছি না। শিল্পীরা তো ফ্রেস্কোতে অনেক কিছুই আঁকেন।'
এদিকে বিরোধী দলগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইরিন মানজি একে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট নামের অন্য একটি দল বলেছে, শিল্পকে যেন কোনো রাজনৈতিক 'প্রচারণার হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মজা নিয়ে ইনস্টাগ্রামে বিতর্কিত সেই ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, 'আমি নিশ্চিতভাবেই দেখতে দেবদূতের মতো কেউ নই!'
