'ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড চান, কারণ এপস্টিন দ্বীপ আর নেই': ট্রেভর নোয়ার কৌতুকে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, মামলার হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে জড়িয়ে কৌতুক করায় গ্র্যামি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ট্রেভর নোয়াকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। রোববার রাতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের সময় ওই কৌতুক করেন নোয়া।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক ক্ষুব্ধ পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার এই কৌতুকাভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেবেন।
অনুষ্ঠানে 'সং অফ দ্য ইয়ার' বা বছরের সেরা গানের পুরস্কার ঘোষণার সময় ট্রেভর নোয়া বলেন, 'এটি এমন একটি গ্র্যামি যা প্রত্যেক শিল্পীই চান—ঠিক ট্রাম্প যেমন গ্রিনল্যান্ড চান। এটা যৌক্তিক, কারণ এপস্টিনের দ্বীপ আর নেই, তাই বিল ক্লিনটনের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার জন্য তার একটা নতুন দ্বীপ দরকার।'
জেফরি এপস্টিনের ব্যক্তিগত ক্যারিবিয়ান দ্বীপে পার্টি এবং সেখানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে ট্রাম্প ও ক্লিনটন দুজনেরই নাম 'এপস্টিন ফাইলস'-এ একাধিকবার উঠে এসেছে। তবে উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে নোয়াকে 'দরিদ্র, করুণ, মেধাতিহীন বোকা এমসি' আখ্যায়িত করে বলেন, 'নোয়া আমার সম্পর্কে ভুলভাবে বলেছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিল ক্লিনটন এপস্টিন দ্বীপে সময় কাটিয়েছেন। ভুল!!! আমি বিলের কথা বলতে পারি না, তবে আমি কখনোই এপস্টিন দ্বীপে যাইনি, এমনকি এর ধারের কাছেও না।'
তিনি আরও বলেন, 'আজ রাতের এই মিথ্যা এবং মানহানিকর বক্তব্যের আগে, এমনকি ভুয়া মিডিয়াও কখনো আমাকে সেখানে থাকার অভিযোগ করেনি। নোয়া, একজন চরম ব্যর্থ মানুষ, তার উচিত সত্যটা জানা এবং সেটা দ্রুত সংশোধন করা।'
এবারের গ্র্যামি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিল্পীদের অবস্থান ছিল বেশ স্পষ্ট। বিলি আইলিশ, অলিভিয়া ডিন এবং ব্যাড বানিসহ অনেকেই অভিবাসন নীতি এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
টেলিভিশন কমেডিয়ানরা, বিশেষ করে লেট-নাইট শোর উপস্থাপকরা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সমালোচনার কারণে নিয়মিত তার ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন। এর আগে স্টিফেন কোলবার্ট এবং জিমি কিমেলও ট্রাম্পের রোষানলে পড়েছিলেন।
রোববারের গ্র্যামি অনুষ্ঠানটি ছিল সিবিএস চ্যানেলে শেষবারের মতো সম্প্রচার। বিশ্লেষকদের মতে, প্যারামাউন্টের সঙ্গে স্কাইড্যান্স মিডিয়ার একীভূত হওয়ার পর সিবিএস রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছে। ট্রাম্প তার পোস্টে সিবিএসের সঙ্গে গ্র্যামির সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াকে উদযাপন করে লিখেছেন, 'গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড সবচেয়ে বাজে, প্রায় দেখার অযোগ্য! সিবিএস ভাগ্যবান যে এই আবর্জনা তাদের চ্যানেলে আর থাকবে না।'
টানা ছয় বছর গ্র্যামি উপস্থাপনা করা ট্রেভর নোয়াও জানিয়েছেন, এটিই ছিল তার শেষবার। এপস্টিন কৌতুকের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার জবাবে তিনি বলেন, 'আমি তো বলেইছি এটা আমার শেষ বছর! তোমরা এ নিয়ে আর কী করবে?'
